মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৩০

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৯৬ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হয়। ২০১৫ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বর্তমানে ৩১ শয্যার ব্যবস্থায় চিকিৎসক সংকটে ভুগছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। অন্যদিকে ১৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে বর্তমানে চলছে চিকিৎসা সেবা। একমাত্র এক্সরে মেশিন বিকল দেড় বছর যাবৎ। যে কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এলাকাবাসী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে হাসপাতালটিতে দেখা যায়, আবাসিক চিকিৎসক হিসাবে ডা. কবির সরদার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। আর একজন গাইনি কনসাল্টেন্ট আছেন। যে কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা এলাকার পল্লী বা কোয়াক ডাক্তারদের এবং দুরে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। বেশীর ভাগ রোগীদের আর্থিক সংকটে দুরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়াও হচ্ছে না। 

এদিকে গুরুত্বর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই জেলা শহরে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন এম্বুলেন্সটি দিয়েই চলছে রোগী বহনে। সেটি যেকোনো সময় বিকল হতে পারে বলে ধারণা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো রেজাউল ইসলাম জানান, ৩১ শয্যা ব্যবস্থায় হাসপাতালটিতে মেডিসিন, অর্থোপেডিকস, শিশু রোগ ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞসহ কারডিওলজি, চক্ষু ও অ্যানেসথেসিয়াসহ ১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে আমি এবং আবাসিক চিকিৎসক মাত্র দুইজন আছেন। এর মধ্যে আবার একজন আবাসিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ট্রেনিং ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে জেলা, বিভাগীয় কাজে ঢাকা যেতে হয় চিকিৎসকদের। তখন হাসপাতাল থাকে প্রায়ই চিকিৎসক শূন্য। নার্স পদে ১১ জনের সকলেই থাকায় কিছু সুবিধা আছে। 
তিনি আরো জানান, ডেন্টিস চিকিৎসক হিসেবে একজন কাজ করছেন। একমাত্র এক্সরে মেশিনটি দেড় বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে আছে যে কারণে নতুন ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ মাসে চিকিৎসক দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু জানতে পারলাম মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। 

তিনি আরো জানান, প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধও রয়েছে কিন্তু ডাক্তার সংকট থাকায় রোগীদের সাময়িক একটু অসুবিধা হচ্ছে তবে আশা করা হচ্ছে এ মাসেই ডাক্তার আসবে। 
 
এ ব্যাপারে ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, জনবল সংকট শুধু মধুখালীতে নয় গোটা ফরিদপুর জেলার সকল হাসপাতালের সমস্যা। যেখানে সারা জেলার ২২৯জন চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে আছে মাত্র ৯০ জন চিকিৎসক। অর্থাৎ ৬০ ভাগ জনবল নেই। আছে মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল যা দিয়ে দ্বিগুণ কাজ করানো হচ্ছে। ৫০ শয্যার বিষয়ে তিনি জানান, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যাবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ