ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

উদীয়মান উদয়

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১৭

  রাকিব হোসেন

 

বর্তমান সময়ে যেখানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস কিংবা ব্যাংকার হওয়াটাই সবার স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক তখনই উদয় হাঁটছেন স্রোতের বিপরীতে। স্বপ্ন দেখছেন বড়ো গায়ক হওয়ার, বাংলা সংগীতকে বিশ্বমানে উন্নীত করার। আজ তার স্বপ্ন পূরণের পথে। ইতিমধ্যেই তিনি দেশ ও দেশের বাইরে সংগীত অনুষ্ঠান করে খ্যাতি লাভ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে চায়নার ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফরম করেছেন। এছাড়াও সংগীত বিভাগের হয়ে দলগতভাবে কোলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের লোকসংগীতকে। যেতে চান আরো বহুদূর, লিখতে চান বিশ্ব সংগীত দরবারে তার নাম। উদয়ের পুরো নাম শাহান কামাল উদয়। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কামাল উদ্দীন ও শামীমা খানমের বড়ো ছেলে তিনি। বর্তমানে তিনি অধ্যয়ন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে। ছোটো থেকেই তার সংগীতের প্রতি ছিল তীব্র অনুরাগ। সংগীতকে ভালোবেসে গড়ে তুলেছেন ইন্ট্রোইট নামে সংগীত ব্যান্ড। ব্যান্ডটি ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু উদয় ও জয় দুই জনের হাত ধরেই এই ব্যান্ডের যাত্রা শুরু। উদয়ের প্রথম পারফরম্যান্স ছিল সোডিয়াম বাতির গানে। রীতিমতো সাড়া ফেলে সেই গান। এই গানের মাধ্যমেই নিজেকে আবিষ্কার করেন বড়ো কোনো তারকা হিসেবে। তবে তার সবচেয়ে বড়ো শোটি ছিল কনভোসার্ট ৫১। ওয়ারফেজ, আর্টসেল, আরবোভাইরাসের মতো ব্যান্ডের সঙ্গে মঞ্চে ওঠার সুযোগ হয় তার। সকলের প্রশংসা আর গণতালিতে মেতে ওঠে চারদিক। আরো একটি বড়ো প্রাপ্তির কথা জানাল উদয়। খুব শিগগিরই তার ‘নরযাযাবর’ গানটি রিলিজ হতে যাচ্ছে। গানটি নিয়ে এখন বেশ ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে সময় পার করছেন। গানটি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উদয় শুধু একজন গায়কই নয়। একজন সংগীত প্রেমিকও। যেমন ভালোবাসেন গান গাইতে তেমনি ভালোবাসেন গান শোনতে।

উদয় ছোটো থেকে বড়ো হয়েছেন সংগীতকে বুকে ধারণ করে। সংগীতকে বুকে ধারণ করে। এই পর্যন্ত আসতে তাকে সহ্য করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। প্রতিবন্ধকতার কথা জানতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য নির্বাক হয়ে যান। নীরবতা কাটিয়ে শুরু করেন তার তীক্ষ অভিজ্ঞতার কথা। একেতো বাংলাদেশের সমাজে সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করাটা একটা বড়ো বিপত্তি তার ভেতর আবার হাজির ছেলে। অনেক সময় হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হতেন। তবে এই বাধাগুলো পার হতে পরিবার তাকে অনেক সহায়তা দিয়েছেন। এ বিষয়ে উদয় বলেন, বাবা মা সব সময় আমার পাশে ছিল। তারা এখনো তীব্রভাবে সাহায্য করে। কোনো রেডিও শো হলে তারা রাত জেগে গান শোনেন। প্রোগ্রামে শোনতে চলে আসে। কথাগুলো বলতে বলতে ইমোশনাল হয়ে পড়েন উদয়।

বর্তমানে উদয় তার ব্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে চারটি গানের কাজ করছে। শেষ পর্যায়ে উদয় আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের প্রায় চারটা গান রেডি। এখন ব্যান্ডের সবাই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত। তবে খুব শিগগিরই আমরা স্টুডিওতে রেকর্ডিং করতে যাচ্ছি।’