একজন লাইফ কোচ রাওমান স্মিতা

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২১

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

মানুষকে মোটিভেট করা খুবই কঠিন কাজ। তবে কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা এই কঠিন কাজকে সহজ করে তুলতে পারে। আর সেই কঠিন কাজের জন্য যদি মিলে যায় কোনো পুরস্কার ও সম্মাননা তখন তো জুড়ি মেলা ভার। তেমনই একটি অসাধ্যকে সাধন করার নিরলস প্রচেষ্টায় নেমেছেন স্বপ্নবাজ একজন মানুষ— রাওমান স্মিতা। গ্লোবাল ইয়ুথ সামিট ও লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এ মোটিভেশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জলোনাথ খোনেল নেপালে অনুষ্ঠিত জাঁকজমক অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেন এই পুরস্কার।

ব্যক্তিগত জীবনে স্মিতা একজন আইনজীবী ও লাইফ কোচ। রাজবাড়ী জেলায় জন্ম তার। বাবা ব্যবসায়ী আর মা একজন গৃহিণী। ইউডা থেকে এলএলবি এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। লাইফ কোচিংয়ের ওপর ট্রেনিং নিয়েছেন লন্ডন ও থাইল্যান্ড থেকে। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি দেশের প্রথম অনলাইন আইন সেবাকেন্দ্র—‘ল থিংকার্স-ওয়ান স্টপ’ ল ফার্ম গড়ে তোলেন। যা পৌঁছে যায় দেশের গণ্ডি পার হয়ে বিদেশেও। আইনপ্রণেতা, আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আত্মিক যোগাযোগ তৈরির জন্য গড়ে তোলেন গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটি। যেহেতু তিনি একজন লিগ্যাল কনসালটেন্ট সেহেতু ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ তার কাছে আসে। আর সেখান থেকেই তার মাথায় চলে আসে ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য কাজ করার চিন্তা। এ লক্ষ্যে গড়ে তোলেন রাওমান স্মিতা-ইনসাইড আউট লাইফ কোচিং। সেখানে সাত বছর বয়স থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, নিজের স্বপ্নকে ছোঁয়ার যাত্রা, পরিকল্পনা ও লক্ষ্যে পৌঁছানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং দিয়ে থাকেন। 

উন্নত জীবন, দেশকে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের বসবাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে লাইফ কোচ হিসেবে কাজ করেন রাওমান স্মিতা। এত ব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে পরিবারকে সময় দেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি নিজেই সময় ব্যবস্থাপনার ওপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মানুষকে ট্রেনিং দিয়ে আসছেন সেহেতু এই বিষয়টি তার নিজেরও প্রাকটিস রয়েছে। তবে তিনি তার স্বামী ও পরিবারেরও যথেষ্ট সহোযোগিতা পান। নারীদের নিয়েও অনেক স্বপ্ন দেখেন স্মিতা। তিনি মনে করেন, একজন নারীকে নারী হিসেবে নয়, স্বপ্ন দেখতে হবে একজন মানুষ হিসেবে। স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্য লড়াই করতে হবে। কাজ করতে হবে নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ মনে করে, বৃহত্ স্বার্থে। পরিষ্কার জানতে হবে, আমি কী চাই! আমি কী করতে যাচ্ছি! প্রতিবন্ধকতা আসবেই, কিন্তু তার মাঝেই সব কিছুকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে নিজের অভিষ্ট লক্ষ্যে।