সখিনার ঘর—হোগলার বেড়া দিয়ে ঘেরা,
তার ফাঁকে ভোরের কোমল আলো ঢোকে,
দুই চোখ মেলে সখিনা তাকায় ঘরের বাইরে—দুখী উঠোনের এক কোণে
সহোদরা তার চিরঘুমে, কিছুদিন আগে,
রাজাকার রাজামোল্লা পাকিসেনাদের হাতে
জোর করে তুলে দিয়েছিল তাকে এক প্রবল ঝড়ের রাতে, একাত্তরে।
সহোদরা রেবা স্কুলে যেত—কত স্বপ্ন ছিল তার!
লতা-পাতা যেমনি বৃক্ষের ডালে-ডালে শোভা,
বড়-হওয়ার আশা খেলত তেমন শোভা হয়ে তার দুই চোখের পাতায়।
দশম শ্রেণির ছাত্রী, ফ্রক-পরিহিতা রেবা, কী আনন্দে হেলেদুলে হাঁটত একলা একটা কবিতা মুখস্থ করার পর!
বুকের ভেতরে কত আনন্দের ঢেউ নাচত যখন সে পড়ত
রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুল, জসিমউদ্দীনের অজর কবিতা।
রেবা,
তোমার মুখশ্রী ভরে, ছিল ছড়ানো বাংলার অপরূপ।
স্বাধীন দেশের পতাকা দেখবে বলে, সে প্রত্যহ
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় করত বিড়বিড়,
‘হে মহান পরোয়ার, ফিরিয়ে আনো দ্রুত তুমি, মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ীর বেশে।’
শুনলেন সৃষ্টিকর্তা তার আকুল প্রার্থনা—
মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পতপত করে ওড়ে
লাল সবুজের নতুন পতাকা,
ফিরল না ঘরে সেই রেবা নূপুর নিক্কণে।
লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের মাঝে, তুমি রেবা, একটা অনন্যা তারা—
তোমাদের দুঃখের কাহিনি বাজবে করুণ সুরে,
এত বাঁশি ধরণীতে কোথাও কি আছে?
