অনেক গভীর রাত, আড্ডা ভাঙে বুকের ভেতরে।
বাড়ি যান, বাড়ি যান—বলে বাতি নেভা পানশালা।
রাজধানী সুনসান—শব্দ নেই—কান ঝালাপালা।
গোরস্তানে অবিরাম কবরের মাটি কেউ খোঁড়ে।
স্মৃতির বসতবাড়ি বুঝি এই খাঁখাঁ করা বুক।
আকাশ গভীর থেকে নক্ষত্রের জোনাকিরা ওড়ে।
পায়ের নিচেই পথ, তবু যায় ফুটপাথ সরে।
জোনাকিরা আজ রাতে সারারাত উড়ুক উড়ুক।
পড়ুক জ্যোত্স্নার দুধ পৃথিবীতে অঝোর ধারায়—
স্মৃতি যদি বাস্তবতা, বাস্তবতা যদি এই হয়,
কী তবে উদ্ধার আর! মেনে নিতে হয় পরাজয়!
বাড়ির ঠিকানা ভুলে জুতোজোড়া ফিরে ফিরে যায়—
ধূসর জগতে আজ, যে-জগতে ছিলো বন্ধুজন,
এখন নীরব হয়ে গেছে ঝড় ঝাউয়ের শাখায়।
কবরে যে শাদা ফুল ফুটেছিলো—ডেকেছিলো আয়,
সাগর গিয়েছে ফিরে, বেলাভূমে এখন লবণ।
এখন লবণ শাদা পৃথিবীর ঘাসের প্রান্তর,
তুমুল আড্ডার শেষে সে-ই তবে একান্ত সরাই।
হূদয় মদিরা মত্ত, টলোমলো পায়ে ফিরে যাই।
লবণে মরেছে গাছ, রস তবু টানছে শেকড়!
