১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের। সালাম জানাচ্ছি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের। তাঁদের আত্মত্যাগে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশ। আমাদের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ পর্যন্ত ২২টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতেই ২০, ৬০ ও ৭৫ পয়সা মূল্যমানের ৩টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। ডাকটিকিটের নকশায় আনন্দের আতশবাজি ও শান্তির প্রতীক হিসেবে ছয়টি পায়রার ছবি স্থান পায়। ডিজাইনার কে জি মুস্তাফা। এরপর ১৯৮২ সালের বিজয় দিবসে প্রকাশিত প্রতিটি ৫০ পয়সা মূল্যের ৭টি স্মারক ডাকটিকিটে স্থান পায় ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর ছবি। ডিজাইনার আহমেদ ফজলুল করিম। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৯৯৬ সালে বিজয়ের রজত জয়ন্তীতে ৪ ও ৬ টাকা মূল্যমানের ২টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এতে জনগণের বিজয় উল্লাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় উল্লাসের নকশা করেন মোহাম্মদ সামসুজ্জোহা। এ বছর ভারতও বিজয় দিবস উপলক্ষে ১টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীও অংশগ্রহণ করেছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে ও জীবন দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সহযোগিতা করেছিল। এ কারণে ভারতও ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে।
২০০১ সালে বিজয়ের ৩০ বছর উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যমানের ৪টি ডাকটিকিটে বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক ও বীরশ্রেষ্ঠ পদকের ছবি স্থান পায়। এই পদকগুলোর নাম শুনলেও অনেকে হয়তো চোখে দেখার সুযোগ পায়নি। ডাকটিকিটগুলোর মাধ্যমে পদকগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। ডিজাইনার মাহবুব আকন্দ। এর ১০ বছর পর ২০১১ সালে বিজয়ের ৪০ বছরে ১০ টাকা মূল্যমানের ১টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এতে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও অপরাজেয় বাংলার ছবি স্থান পায়। ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটটিতে স্থান পায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি। এই দুটি ডাকটিকিটের নকশাকার আনোয়ার হোসেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটে স্থান পায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে বঙ্গবন্ধুর ছবি। ডিজাইনার জসিমউদ্দিন। ২০১৫ সালে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও মানচিত্রের নকশাকার সনজীব কান্তি দাস। ২০১৬ সালে ১৬ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় পতাকার ছবির নকশাকার আনোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটে বঙ্গবন্ধুর ছবির নকশা করেন সনজীব কান্তি দাস। এবারের বিজয় দিবসেও একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হবে।
বিজয় দিবসের ডাকটিকিটগুলোর নকশায় কোনো বৈচিত্র্য নেই। প্রায় একই ধরনের বিষয় ও ছবির চর্বিতচর্বণ। এক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক, চলচ্চিত্র বা বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীককে বিষয় করে ডাকটিকিট প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে করে নতুন প্রজন্ম যেমন ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে, তেমনি ডাকটিকিট সংগ্রহেও আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
