মা হ বু ব আ ল ম
প্রাণখোলা এক প্রাণোচ্ছল আহ্বানে সাড়া মেলে সহস্র প্রাণের। নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে নবীনেরা জড়ো হয় বটতলা প্রাঙ্গণে স্বস্তির আহ্বানে—‘নৃশংস নৈঃশব্দ ভেঙে সুনন্দ সাহস জাগুক প্রাণে প্রাণে’। এই আহ্বান বটতলা নাট্যদলের। একই মানুষের ভেতরে বসত করে কতই না ধারণা—ধারণ করে কতই না রূপ। সেই সকল ধারণকৃত রূপ যদি যূথবদ্ধভাবে মানবের কল্যাণে নিবেদিত হয় তবেই মানবের জয় হবে। দূর হলে সকল বৈষম্য আর আঁধার, মানুষ তবে মানুষ হবে। এমন ভাবনার রূপায়নে বটতলা তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করছে ‘বটতলা রঙ্গমেলা-২০১৯’। আগামী ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় উত্সবের উদ্বোধন করবেন নাট্যজন আতাউর রহমান, প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিশেষ অতিথি থাকবেন তিনজন তরুণ নাট্যকার সাধনা আহমেদ, রুমা মোদক ও শুভাশিস সিনহা। বটতলার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে তাদের মূল অনুষ্ঠানের অনুষঙ্গ হিসেবে মূল হলের বাইরেও থাকছে কিছু আয়োজন। যার নামকরণ করা হয় তাদের এক প্রয়াত নাট্যকর্মীর নামানুসারে। ‘বহিরাঙ্গন :নাদিম মঞ্চ’। বহিরাঙ্গনে নাদিম মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে ৭টা পর্যন্ত থাকছে গান, নাটক, কবিতা, নাচ। থাকছে মনিপুরী থিয়েটার, ক্ষ্যাপা বাউল, জবিরঙ্গ, সমগীত, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, এফ মাইনর, ঢাকা থিয়েটার, মাদল, সর্বনাম, জাককানইবি নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিভাগ এবং বেতাল। নাচ, গান, পথনাটক ও পারফরম্যান্স দিয়ে মাতিয়ে রাখবেন তারা বহিরাঙ্গন। এছাড়াও প্রতিদিন নাদিম মঞ্চে নির্দেশকের মুখোমুখি দর্শকের রঙ্গ আড্ডা রাত ৯টা ৩০ থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে। বটতলা নাট্যদল তাদের এই রঙ্গমেলার শুরু থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশেষ মানুষদের বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানিত করে আসছে। প্রতি বছর তারা একজন বিশেষ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে এবং বাংলাদেশের সবগুলো বিভাগ থেকে একজন করে বিশেষ ব্যক্তিদের দিয়ে থাকে সম্মাননা। এবারও বটতলা তাদের আয়োজনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। আর এবারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথিতযশা নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদকে। রঙ্গমঞ্চে বটতলা আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে ২৬ নভেম্বর। ১৭ থেকে ২৪ নভেম্বর মূল রঙ্গমঞ্চে বিভাগীয় নাট্যজন সম্মাননা প্রদান করা হবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ পর্যন্ত। এবারের বিভাগীয় সম্মাননা দেওয়া হবে যথাক্রমে খান দেলোয়ার হোসেন (বরিশাল বিভাগ), হেমেন্দ্র চৌধুরী (সিলেট বিভাগ), হরিপদ সূত্রধর (ঢাকা বিভাগ), সবিতা সেনগুপ্ত (রংপুর বিভাগ), গৌরাঙ্গ আদিত্য (ময়মনসিংহ বিভাগ), মিলন চৌধুরী (চট্টগ্রাম বিভাগ), অনিতা মৈত্র (রাজশাহী বিভাগ), রোহানি বেগম মেরীকে (খুলনা বিভাগ)। এসব সম্মাননার আড়ালে তাদের থাকছে আরো আয়োজন। এই আয়োজনের আলোকিতজনেরা হলেন প্রতিনিয়ত মঞ্চের আড়ালে থেকে সামনের মানুষদের যারা নানাভাবে নানা ক্ষেত্রে আলোকিত করে। কেউ সরাসরি আলো দিয়ে, কেউ আনুষাঙ্গিক সংগীত প্রক্ষেপণ করে বা সংগীতায়োজনের মাধ্যমে, আবার কেউবা তাদের সাজিয়ে বা রাঙিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। বটতলা এবার এমন কয়েকজন গুণী মানুষকেও সম্মানিত করতে চলেছে। প্রতিদিন নাটক শেষে পর্দার অন্তরালে থাকা থিয়েটারের এই অপরিহার্য কুশলিদের জানানো হবে সম্মান, এবার প্রথমবারে মতো চালু হতে যাওয়া এ সম্মাননা ‘অন্তরালের সম্মাননা’ নামে পরিচিত হবে। বটতলার শিশু প্রহরে থাকছে ভিন্ন আয়োজন। শিশুদের জন্য নাটক আর আঁকিবুঁকির আয়োজন। শিশু প্রহর :হূদয়ঙ্গম ঋদ্ধ মঞ্চ। এ মঞ্চে শিশুদের প্রহর আছে দুইদিন (২২ ও ২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে। থাকছে আওয়ার কিংডম (শব্দাবলি, বরিশাল), পুঁথি পড়া, পাখি পড়া (ফুলকি, চট্টগ্রাম) ও পুতুলনাচ (বাংলাদেশের পুতুল নাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র)। আর দুদিনই থাকছে আর্টক্যাম্প। ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে শিশুদের উত্সাহিত করবে সিসিমপুর। শিশুদের আঁকাআঁকির আয়োজন করা হবে ২২ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ থেকে। নাট্যাঙ্গনের আলাপপ্রিয় মানুষদের জন্য থাকছে বেশ চমকপ্রদ খবর। নাটকের ঋদ্ধজনেরা মেতে উঠবেন তাদের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণে, আবার কেউবা শোনাবেন তাদের সফলতার গল্প। প্রদর্শিত হবে দেশ-বিদেশের গুণীজনদের ওপরে নির্মিত তথ্যচিত্র। সুতরাং বটতলার এই আয়োজনও দর্শকের কাছে খুব আকর্ষণের হবে আশা করা যায়। সুমন মঞ্চে চারটি (৪টি) তথ্যচিত্র প্রদর্শনী রয়েছে ২১, ২২, ২৩ তারিখে ৩টা ৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত। তথ্যচিত্রগুলো হলো লেট দেয়ার বি লাইট :তাপস সেন (ভারত), ফেরদৌসি মজুমদার (বাংলাদেশ), বিহাইন্ড দ্য কার্টেইন :বিভাস চক্রবর্তী (ভারত)।
২৪ তারিখে সুমন মঞ্চে বিকাল ৫টায় তথ্যচিত্র দ্য টিচার :সৈয়দ জামিল আহমেদ (বাংলাদেশ) দেখানো হবে। আর হ্যাঁ, বাংলা নাটকের জীবন্ত কিংবদন্তি বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে রঙ্গমঞ্চে বটতলার আলাপ থাকছে ২৬ তারিখ বিকাল ৪টা ৩০-এ। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বটতলার এই আয়োজন সফল হবে নিশ্চয়।
সুমন মঞ্চে তিনটি (৩টি) মাস্টারক্লাস ২১, ২২, ২৩ তারিখে ৫টা থেকে ৬টা ৩০ পর্যন্ত। সংগীত ও নাট্য বিষয়ে মাস্টারক্লাস নেবেন নাট্যজন শিমুল ইউসুফ, চিত্রকলা ও নাট্যশিল্প নিয়ে বলবেন শিল্পী ঢালী আল মামুন এবং শরীর, নৃত্য ও প্রশ্ন নিয়ে মাস্টারক্লাসে থাকবেন শৈবাল বসু (ভারত)। আর প্রতিদিন রঙ্গমঞ্চে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ থেকে থাকবে নাটক। দেশ-বিদেশের সব মঞ্চসফল নাটক নিয়ে যারা থাকছে ‘ক্রাচের কর্নেল’ (বটতলা, বাংলাদেশ), আমার মুখের আঁচলখানি (রঙ্গাশ্রম, ভারত), ‘ডিলেমা উইথ মাই ফ্ল্যামেঙ্কো টেইলকোট’ (মুন প্যালেস, স্পেন), ‘মিস্টেরিয়াস গিফট’ (ক্রেজি বডি গ্রুপ, ইরান), ৪.৪৮ সাইকোসিস (আরোহন-গুরুকুল, নেপাল), বিল্বমঙ্গল (চাকদহ নাট্যজন, ভারত), ম্যাকবেথ (পদাতিক নাট্য সংসদ, বাংলাদেশ), শুক (জলপাইগুড়ি কলাকুশলী, ভারত), ব্ল্যাক হোল (জয়তী ডগরা, ভারত), আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র (সুখচর পঞ্চম, ভারত), খনা (বটতলা, বাংলাদেশ)।
