রবীন্দ্রনাথ ও মণিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষের সেতুবন্ধনে স্মরণোত্সব

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০০

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা 

 

১৯১৯ থেকে ২০১৯। রবীন্দ্রনাথ ও মণিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষের সেতুবন্ধনে স্মরণোত্সব আয়োজন করলো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মণিপুরী সম্প্রদায়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৬ নভেম্বরকে ‘মণিপুরী  নৃত্য দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় মাধবপুরের ললিতকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মণিপুরী  সমাজ কল্যাণ সমিতি, মণিপুরী  ললিতকলা একাডেমি, মণিপুরী  যুব কল্যাণ সমিতি, মণিপুরী  মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ও মণিপুরী  থিয়েটারের যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভায় মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি ৬ নভেম্বরকে ‘মণিপুরী  নৃত্য দিবস’ ঘোষণা করে। র্যালিতে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন অংশগ্রহণ করেন।

মণিপুরী  সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক কমলাকান্ত সিংহের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক ড. রঞ্জিত সিংহ, আহমদ সিরাজ, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ, ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাষ সিংহ, নাট্য নির্দেশক শুভাশিষ সমির ও সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ প্রমুখ। সভা শেষে মণিপুরী  ললিতকলার শিল্পীরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মরণে রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সভায় আলোচকরা বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালের নভেম্বরে সিলেটে বেড়াতে এলে প্রথমে মণিপুরী  হস্তশিল্প ও এর কারুকাজ দেখে অভিভূত হন। পরে তিনি জানতে পারেন যে, এই হস্তশিল্পের কাপড় মণিপুরী দের তৈরি। তিনি সিলেটের মণিপুরী পাড়ার মাছিমপুরে গিয়ে মণিপুরী  রাখাল নৃত্য দর্শন করে মুগ্ধ হয়ে রাসলীলা নৃত্য দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কবিগুরু মণিপুরী  রাসনৃত্যর সাজসজ্জা, সাবলীল ছন্দ ও সৌন্দর্যে বিমোহিত হন এবং কলকাতার শান্তিনিকেতনে ছেলেমেয়েদের নৃত্য শেখানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে কলকাতার শান্তিনিকেতনে প্রথমবারের মতো মণিপুরী  নৃত্য ব্যবহার করে মঞ্চস্থ হয় ‘নটীর পূজা’ ও ‘ঋতুরাজ’।

পরে কবিগুরুর আমন্ত্রণে যোগ দেন মণিপুরী  রাসনৃত্যের গুরু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের নীলেশ্বর মুখার্জী। রবীন্দ্রসংগীতের গভীরতা ও কাব্যময়তার সঙ্গে মণিপুরী  নৃত্যের সাবলীল গতি ও বিশুদ্ধ নান্দনিকতার মধ্যে বিশেষ সামঞ্জস্য থাকায় শান্তিনিকেতনে উচ্চাঙ্গ নৃত্যধারার মধ্যে মণিপুরী  নৃত্য সর্বাপেক্ষা সমাদৃত হয়। এরপর বাংলাদেশে এবং ভারতে মণিপুরী নৃত্যের প্রচার ও প্রসার ঘটে। কবিগুরুর ছোঁয়ায় মণিপুরী  নৃত্য সারাবিশ্বে পরিচিত লাভ করে।