আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য শান্তির পরিবেশ তৈরি করা জরুরি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই সমৃদ্ধির জন্য শান্তি-সম্প্রীতি-স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এজন্য পারস্পরিক আস্থা ও মঙ্গলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। একে অপরের মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু কোনো ভূ-কৌশলগত বা রাজনৈতিক বৈরিতা চলবে না। গতকাল বুধবার ঢাকার ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ’য়ের তৃতীয় ও সমাপনী দিনের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে স্পন্দমান এবং বর্ধনশীল অঞ্চল। এ অঞ্চলেই পৃথিবীর ৬৫ শতাংশ মানুষের বাস। একইসঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দরিদ্র মানুষেরও বাস এ অঞ্চলেই। তাই টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হয় এমন বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, শিল্প বিপ্লবের পরে উন্নয়ন পশ্চিমামুখী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল তার পুরোনো চেহারা ফিরে পেতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী দেশ চীন ও ভারতের নেতারা প্রতি বছর আলোচনায় বসছেন। এটি এ অঞ্চলের শান্তির জন্য খুবই উপযোগী। বড়ো অর্থনীতির দেশগুলোর উচিত বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করা।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় জোশি বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ দরকার। এখনই এ নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সদস্য নাঈম রাজ্জাক সভা সঞ্চালনা করেন।

এদিকে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেছেন, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে কানেক্টিভিটির জন্য অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সবার সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে এই অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে হবে। ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগের মধ্য দিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের যে গুরুত্ব, সেটা সবাই জানতে পেরেছে। তিনি বলেন, আমরা চাই উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নের জন্যই একে অপরের সঙ্গে কানেক্টিভিটি প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবকিছু ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে হয় না। ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে আমাদের নিজস্ব কনসেপ্ট আছে, চীনের নিজস্ব কনসেপ্ট আছে, আসিয়ানের নিজস্ব কনসেপ্ট আছে। এর মধ্যে দিয়েই আমাদের একে অপরের সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার তিন দিনব্যাপী ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও ভারতের অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে এ ডায়ালগের আয়োজন করে।