হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া নিয়ে ভারতীয় বিচারকের রায়ে তীব্র বিতর্ক

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৪

সম্প্রতি ভারতের এক হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ধর্মের ভিত্তিতে যেহেতু দেশভাগ হয়েছিল, তাই ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। এই রায় নিয়ে ভারতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতারা যেমন এই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই আইনজীবীদের সংগঠন এই বিচারপতিকে সব বিচারসংক্রান্ত কাজ থেকে দূরে রাখার আর্জি জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই রায় নিয়ে।

মেঘালয় হাইকোর্টের ওই রায়টি দিয়েছেন বিচারপতি সুদীপ রঞ্জন সেন। রায়ের চার নম্বর অনুচ্ছেদে বিচারপতি যে মন্তব্যটা করেছেন, সেটা নিয়েই গোল বেঁধেছে। তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান নিজেদের ইসলামিক দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং যেহেতু ভারতকে ধর্মের ভিত্তিতেই ভাগ করা হয়েছিল, তাই ভারতেও উচিত ছিল হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করা। কিন্তু সেটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবেই রয়ে গেছে।’ রায়ের শেষ দিকে বিচারপতি লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এই সরকারই বিষয়টার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও জাতীয় স্বার্থে সেটা সমর্থন করবেন।’ খবর বিবিসি বাংলার

এই রায়টি জনসমক্ষে আসার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আরএসএসের হিন্দু রাষ্ট্রের যে মতবাদ রয়েছে, এই বিচারপতির রাজনৈতিক বিশ্বাসও সেরকমই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের মূল ভিত্তিই হল ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু বিচারপতি সেনের সামপ্রদায়িক যে চিন্তাভাবনা রায়ে প্রকাশ পেয়েছে, সেটি সংবিধানের মূল ভাবনার বিপরীত। একটি সাংবিধানিক আদালতের বিচারক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন।’

ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়ন দাবি জানিয়েছে, বিচারক সেনকে সবরকম বিচারিক কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। এই বিচারপতিকে অপসারণের জন্য সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনারও দাবি তুলেছে সংগঠনটি। এই রায় নিয়ে বিতর্ক চলছে সামাজিক মাধ্যমেও। টুইটারে গুরমিত্ সিং লাম্বা লিখেছেন, ‘এই বিচারকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। তিনি কীভাবে সংবিধানের মূল চিন্তার বিরোধিতা করেন? ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং চিরকাল তাই থাকবে।’