সাদাতের সঙ্গে আজ দেখা হবে অনেকগুলো বছর পর, প্রায় বিশ-একুশ বছর তো হবেই। সংসদ ভবনের সামনে বকুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি তার অপেক্ষায়। মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বারবার শিং মাছের মতো ঘাই দিচ্ছে, কী বলে ডাকব তাকে আমি? এতদিন পর সেই আগের সম্বোধন কি সে মেনে নেবে?
মনের ভেতর বিশ-একুশ বছর আগেকার চলচ্চিত্র। কত বয়স তখন আমার, কোন ক্লাসে পড়তাম। সাদাত দেখতে কেমন ছিল, এতগুলো বছর পর এখন সেও বা দেখতে কেমন হয়েছে? অনেক প্রশ্ন মনের গহিনে বুদ্বুদ করছে। বারবার মনে পড়ছে সাদাতের চুল ছিল দিঘল কালো জলপ্রপাতের মতো। এত বছরে অনেক ঘন চুলের মেয়ে দেখেছি, কিন্তু সাদাতের মতো চুল দ্বিতীয় কারো দেখিনি।
স্কুলের নিচের দিকের ক্লাসে যখন পড়ি তখন সাদাত আমাদের বাড়িতে বউ হয়ে আসে। তারপর ওকে আমি একবারই দেখেছি। এতদিন মনে হতো সেই বুঝি প্রথম আর শেষ দেখা! ফেসবুক আসার পর সাদাতকে প্রথম দিকে কত খুঁজেছি, পাইনি। তারপর অনেকদিন আর খুঁজিনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাত্ ফেসবুকের হোমপেজে অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যাপনারত বাংলাদেশি একজন নারী গবেষকের সাফল্যের খবর আসে। সেখানেই তার পরিচয় পেয়ে নিশ্চিত হই যে, সেই আমার সাদাত। পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ই-মেইল আইডি নিয়ে যোগাযোগ করি। তার লেখা মেইলগুলো পড়েই বুঝতে পারি সে এখনো আগের মতোই সহজ মানুষ আছে। নিজেই আমাকে জানিয়েছিল এ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবে একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারের প্রধান বক্তা হয়ে। এই উপলক্ষে এখন সে ঢাকায়। আজ তার সঙ্গে আমার দেখা হবে, একটু পরেই! অথচ মনে হচ্ছে সময়ের পায়ে যেন পাথর বাঁধা।
‘সাদাত’ তার আসল নাম নয়, আমার দেওয়া নাম। সে জানেও না এই নামটা আমি তাকে দিয়েছি। নামটা পেয়েছি লেখক সুখোয়ান্ত সিং-এর ‘সাদাত’ নামের একটা গল্প থেকে। তবে ওই গল্পের সাদাত আর আমার এই সাদাতের মধ্যে সেই অর্থে কোনো মিল নেই।
সিং সাহেবের গল্পের সাদাতের সঙ্গে লেখকের দেখা হয় নিতান্তই বালক বয়সে, কোনো এক পাহাড়ে। লেখক তার বাবার চাকরির সুবাদে কোনো এক পাহাড়ি এলাকায় থাকত, সেখানেই সাদাত নামের এক অনিন্দ্য সুন্দর তরুণী বধূ ছিল তাদের প্রতিবেশী। লেখকের মায়ের সঙ্গে খুব সখ্য ছিল তার। বাবার বদলির চাকরি হওয়ায় একসময় পাহাড়ি বাংলো ছেড়ে অনেক দূরে পাড়ি জমাতে হয়, আর তখন থেকেই পাহাড় আর সাদাত নামের মানুষ দুইই হয়ে যায় অতীত আর ছেলেবেলার ফেলে আসা গল্প।
অনেক বছর পর, লেখক তখন পরিপূর্ণ যুবক, কোনো এক পড়ন্ত বেলায় কফির মগে চুমুক দিতে দিতে ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যায়, পাহাড়ের কথা মনে পড়ে, সাদাতের কথাও মনে পড়ে। এরপর এক ছুটির দিনে লেখক সাদাতকে খুঁজতে সেই পাহাড়ে যায়। দেখা মেলে সেই সাদাতের কন্যার। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই মেয়েটির নামও ‘সাদাত’, মায়ের নামে নাম! সেই একই মুখ, একই গড়ন, যেন এতগুলো বছর গত হয়নি। যেন এই পাহাড়ে সময় বহু বছর ধরে থেমে আছে। যেন এই পাহাড়ে সাদাতদের বয়স বাড়ে না, তারা একই রকম থাকে জীবনভর, যেমন করে বুকের ভেতর স্মৃতিরা থাকে অমলিন!
এই গল্পটা পড়ে মনে হয়েছিল, আমারও তো এমন একজন আছে, সেই ছোটবেলায় দেখা স্নেহশীলা মুখ, যা এত বছরে আমার কাছে একই রকম, তার বয়স আমার কাছে বাড়েনি। তাই তার নামও আমি দিলাম ‘সাদাত’।
মাঘের কোনো এক কড়া শীতের সময়, লেপের ভেতর পা ঢুকিয়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কানে এল বাবা-মা ছোট চাচার বিয়ে নিয়ে আলোচনা করছে। ছোট চাচা তখন স্কলারশিপ নিয়ে ফিনল্যান্ডে পড়তে গেছে। একই ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় বাংলাদেশেরই আরেক গবেষকের সঙ্গে। আমি তো খরগোশের মতো কান করে শুনছি পাশের ঘরের আলোচনা। কতদিন পর বাড়িতে বিয়ের উত্সব হবে, আমার তো ভাবতেই খুশিতে পেটের ভেতর গুড়গুড় করছে। কিন্তু পরক্ষণেই যখন শুনলাম বিয়ে হবে ফিনল্যান্ডে আর গ্রীষ্মের ছুটিতে তারা দুজন দেশে বেড়াতে আসবে, আঙুলে কর গুনে দেখি গ্রীষ্ম সে তো অনেক দেরি! মনের ভেতর ঝনঝন করে কাচ ভাঙার শব্দ শুনতে পেলাম।
এক মাস, দু’ মাস করে অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল। দাদী, মা আর অন্য সবাই ঘরবাড়ি কেবল গোছায় আর গোছায়। ফুফুরা সপরিবারে চলে এসেছে। বাড়িটাকে পুরো ইন্দ্রপুরী মনে হচ্ছে। আর আমরা ছোটরা, মানে স্কুলের উঁচু-নিচু বিভিন্ন ক্লাসে পড়া চাচাতো, ফুফাতো ভাই-বোনেরা কেবল ঘরবাড়ি অগোছালো না করার শর্তে যা খুশি তা-ই করার স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা নতুন চাচীকে কে কোন আদরের নামে ডাকব তা-ই নিয়ে জল্পনা করছি। আবার ভাবছি এই ডাক সে পছন্দ করবে তো? যদি খুব রাশভারী কিংবা রাগী হয়? অবশ্য কোনো ভাবনাই বেশিক্ষণ স্থায়িত্ব পাচ্ছে না।
আমাদের কেবল আনন্দ আর আনন্দ।
আমি তেমন দারুণ কোনো সম্বোধন আবিষ্কার করতে না পেরে ‘ছোট চাচী’ বলে ডাকব বলে ঠিক করলাম।
ফ্লাইট এসে পৌঁছলো রাতে। ছোট চাচা আর নতুন চাচীকে নিয়ে সবাই যখন বাড়ি ফিরল তখন প্রায় মধ্যরাত। সারাদিন দস্যিপনা করে আমরা তখন ঘুমের রাজ্যে। আনন্দময়ীর আগমন দেখা আর হলো না আমাদের। সকালে যখন ঘুম ভাঙল, দেখি আমাদের দিকে মনযোগ দেবার কেউ নেই। সবাই যেন মা লক্ষ্মীর অর্চনায় ব্যস্ত। আমরা দূর থেকে জুলজুল করে দেখছি বাড়ির নতুন সদস্যকে। সবার থেকে আলাদা একদম ঝকঝকে এক নতুন মানুষ। এমনটা আগে আমরা কেউ কখনো দেখিনি। কেমন মিষ্টি দেখতে, কেমন সুন্দর করে শাড়ি পরা!
সেবার চাচা-চাচী সবমিলিয়ে দিন পনেরো ছিল আমাদের সঙ্গে। সেই পনেরোটা দিন আমাদের কচি মনে একেবারে খোদাই হয়ে গেল। দিন দুয়েক মাত্র খরচ হয়েছিল আমাদের চেনাজানা হতে। তারপর আর একদিনও মনে হয়নি তাকে আমরা মাত্র কয়দিন আগেই চিনেছি।
দিনের অধিকাংশটাই আমরা তাকে দখল করে রাখি, তাকে ঘিরে রাখি। বাড়ির উঠোনে বকুল গাছের ছায়ায় দিনভর আমাদের কতরকম খেলা। দুপুরবেলা পুকুরে দলবেঁধে সাঁতারের প্রতিযোগিতা। মা আর দাদী উদ্বিগ্ন হয়, সদ্য বিদেশ থেকে আসা নতুন বউটার ঠাণ্ডা-জ্বর না হয় এই পুকুরের জলে। কিন্তু ছোট চাচী তখন আমাদের দলে, পুকুরের জলে কলমিলতা দিয়ে টক্কাবক্কা খেলা, ডাহুক ছোঁয়া খেলা চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পুকুর থেকে যখন উঠি তখন সবারই আঙুলের চামড়া কুঁচকানো আর চোখ রক্তজবা। আমরা মায়ের শাসনের ভয়ে জড়সড় আর চাচী আমাদের ঢাল। দুপুরে খাওয়ার সময় আমাদের পুরো বিচ্ছু বাহিনীর টেবিলে জায়গা হবে না তাই সে আমাদের সবাইকে দু’ পাশে নিয়ে মেঝেতে পাটি বিছিয়েই খেতে বসল।
সবাই তো অবাক। নতুন বউ এমন ধারার ভালো মানুষ হয় নাকি! তাও আবার বিদেশে লেখাপড়া করা, যেখানে কিনা আমাদের ছোট চাচাকেই মাঝেমাঝে বিদেশি বিদেশি বলে মনে হয়! আমরা ছোট চাচার দিকে খুব একটা মনোযোগ দিলাম না, আমাদের সমস্ত কিছু তখন চাচীকে ঘিরে। চাচীর জন্য ঝোপজঙ্গল ঘুরে কত রকমের যে সুগন্ধি বুনোফুল এনে দিতাম। খুব খুশি হতো ফুল পেয়ে। কখনো কখনো আমাদের কুড়িয়ে আনা ফুল শোভা পেত তার চুলের বিনুনিতে। আমাদের বিকেলও কাটত নানারকম খেলায়। কোনো কোনো দিন খেলা ভাঙত অনেক রাতে।
এভাবেই পনেরোটা হাওয়াইমিঠাই দিন পার হলো আমাদের। চাচা-চাচীর গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হলো। এবার ফিরে যাবার পালা। কিছুতেই বিশ্বাস হতে চায় না আমাদের খেলা ভাঙার দিন এসে গেছে। বিদেশ থেকে আসার সময় চাচী বাড়ির সবার জন্য ট্রলি ভরতি করে নতুন উপহার এনেছিল। আর চলে যাবার সময় বিচ্ছু বাহিনীর সবাইকে স্মৃতি হিসেবে দিয়ে গেল নিজের ব্যবহার করা কোনো না কোনো প্রিয় জিনিস। উপহার মুঠিবদ্ধ করে আমরা সবাই মাটির দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের কচি-কাঁচা হূদয়গুলোর এই পর্বতসমান কষ্টের বরফ কোনো উত্তাপেই আর গলে না। চাচী একে একে সবাইকে অনেক আদর করল, সব্বাইকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদল। আমাদেরও যে বড়ো হয়ে কত বড়ো বড়ো বিজ্ঞানী আর গবেষক হতে হবে তার স্বপ্ন বুনে দিল। ফুঁপিয়ে কেঁদে আমরা আমাদের প্রাণের রানিকে বিদায় দিলাম।
এরপর কয়েকটা দিন কেবল চাচীর মায়াময় উপস্থিতি ছিল বাড়িজুড়ে। বড়োদের মুখে চাচীর প্রশংসা শেষই হয় না, ছোটদের হূদয়জুড়ে স্মৃতির বুড়বুড়ি। যেন রূপকথার রাজ্য থেকে এক পরি এসেছিল, আমাদের সম্মোহিত করে আবার হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আরো কয়দিন পর আত্মীয়রা যে যার ঠিকানায় ফিরে গেল, আমিও মন দিলাম স্কুল আর পড়াশোনায়। চাচী আমাকে লাল রংয়ের একটা ঝরনা কলম দিয়েছিল উপহার। আমি স্কুলব্যাগের ভেতরে খুব সাবধানে লুকিয়ে রেখেছিলাম। মাঝেমাঝে মনে পড়লেই বের করে দেখতাম, ভাবতাম বড়ো হলে আমিও চাচীর মতো মস্ত গবেষক হব! তারপর, কবে যে ঝরনা কলমটা হারিয়ে গেল, জানতেই পারলাম না।
এরপর এক-একটা বছর যায়, নতুন ক্লাস, নতুন পড়াশোনা। একসময় চাচীকে তেমন করে আর মনে পড়ত না। কেবল জানতাম অস্ট্রেলিয়াতে আছে, মেলবোর্নে কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়।
আরো কয়েক বছর পর, ছোট চাচা পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরল, একা। এবার বাড়ি আর ইন্দ্রপুরী হলো না। বড়োদের যতই জিজ্ঞেস করি চাচী কেন এলো না, কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাই না। সবাই কেমন বিষণ্ন, কোনো কথা দুইবার জিজ্ঞেস করতেই ভয় পাই। আমাদের কাছে অজানাই রয়ে গেল কী হয়েছে চাচীর, কেন এলো না সে। প্রথমবার রহস্যময়ী এসে যেমন মন্ত্রমুগ্ধ করে গিয়েছিল, এবার রহস্য যেন আরো বেশি, আরো জটিল। কিছুতেই আমরা এই রহস্য ভেদ করতে পারলাম না।
পরে জেনেছিলাম চাচা-চাচীর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কেন, কী ঘটেছিল কখনো জানতে পারিনি। তবে চাচী আমাদের কাছে সেই আগের মতোই দেবীর আসনে রয়ে গেল। মাঝেমধ্যে হঠাত্ মনে পড়লে গোপনে তাকে কেবল অর্ঘই দিয়ে গিয়েছি। তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা কমেনি একটুও এবং কেন যেন মনে হয় তিনিও আমাদেরকে ঠিক এমন করেই ভালোবাসেন, স্নেহ করেন আজও।
হঠাত্ করে যেন বহুদূর থেকে পানির সঙ্গে পাক খেতে খেতে অস্পষ্টভাবে আমার নামটা ভেসে এলো। হাত দিয়ে মাকড়সার জাল সরানোর মতো করে স্মৃতিরা যখন সরে গেল, সামনে পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সী ভীষণ কান্তিময় সৌম্য চেহারার একজন ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছেন।
‘তুমি কিংশুক না? কত বড়ো হয়ে গেছ!’ আমার চিনতে একটুও অসুবিধা হয়নি, একই রকম আছে। সেই ঝিলিক দেওয়া হাসি, সেই জলপ্রপাতের মতো চুল, সেই স্নেহভরা চোখ। মনে মনে বললাম, এইতো আমার সাদাত!
সেদিন অনেক কথা হলো আমাদের, অনেক গল্প। দাদী আর এই পৃথিবীতে নেই শোনার পর তার চোখে যে কষ্ট আর বিষণ্নতা দেখলাম, তা কেবল অকৃত্রিমতা থেকেই আসে। সাদাত আমার জন্য ঠিক মনে করে আবার উপহার এনেছে। আর আমি এতদিন পর সাদাতকে দেখব সেই উচ্ছ্বাসে কিছু কেনার কথাই ভুলে গিয়েছি। কাছে পেয়েই অভিযোগ করলাম, এতদিনে কি আমাদের কথা একবারও মনে পড়েনি তোমার? কখনো কি দেখতে ইচ্ছে করেনি? এই দুপুরের রোদ্দুরেও সাদাতের মুখে আমি সন্ধের আবছা অন্ধকার দেখতে পেলাম। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, অস্ট্রেলিয়াতে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়াই সেখানে কিংশুক নামের কোনো বাংলাদেশি ছেলে ভর্তি হয়েছে শুনলেই দৌড়ে গিয়েছি, খোঁজ নিয়েছি তুমি কি না। ভাবতাম এতদিনে তুমি নিশ্চয়ই অতটাই বড়ো হয়েছ।
সেদিন আমরা অনেক হাসলাম, আমরা কাঁদলাম, আমরা অভিমান করলাম, কিন্তু কিছুতেই আমি জিজ্ঞেস করতে পারলাম না, কী হয়েছিল তোমাদের? কিসের অভিমান করে তুমি আর ফিরে এলে না? তার বদলে জানতে চাইলাম, কী বলে ডাকব তোমায়, তুমি কিন্তু এখনো আমার কাছে সেই আগের অবস্থানেই আছ, ছোট চাচী। সাদাত আমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল, যে সম্পর্ক বহুদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে, সে সম্পর্কের সূত্র ধরে আমাকে আর ডেকো না, প্লিজ।
—তবে?
—মানুষের জীবনে তো বিভিন্ন রকম সম্পর্কের বন্ধন থাকে। কিছু জন্মগত, কিছু আইনগত। আবার কিছু সম্পর্ক সমাজ আমাদের দেয়। আর কিছু থাকে এসবের ঊর্ধ্বে। যেটাকে আমরা ছোট্ট করে বলি বন্ধুত্ব। ধরে নাও আমাদের এই সম্পর্কটা এখন থেকে একরকম বন্ধুত্বের। বন্ধুত্বের সীমানা অনেক বিস্তৃত, এখানে জটিলতা কম।
