মডেলিং ও অভিনয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই চাইল্ড আর্টিস্ট হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে তৌহিদুল ইসলাম তাইফ। তার মিষ্টি চেহারা, অভিনয়-দক্ষতা আর সুন্দর চুলে আকৃষ্ট অনেকেই। তারই কিছু কথা জানব আজকে আমরা কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে। তাইফের সঙ্গে কথা বলেছেন— মুনতাসির সিয়াম
কেমন আছ তাইফ?
তাইফ :ভালো আছি। আপনি ভালো?
আমিও ভালো আছি। গতকাল তো সারাদিন শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততায় ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় পাওনি। আজ তাহলে ইন্টারভিউটা শুরু করি?
তাইফ :হ্যাঁ, গতকাল সারাদিন শ্যুটিংয়েই ছিলাম। সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরেছি।
আচ্ছা, তোমাকে তো আমরা মোটামুটি নিয়মিতই টিভির পর্দায় দেখতে পাই। অভিনয়ের প্রথম সুযোগটা কীভাবে এসেছিল?
তাইফ : এটা এসেছিল ইফতেখার আহমেদ অসিন আঙ্কেলের মাধ্যমে। উনি পরিচালক মাবরুর রশীদ বান্নাহ মামার প্রোডাকশনে কাজ করেন। উনিই প্রথম আমার ছবি তুলে নিয়ে গিয়ে বান্নাহ মামাকে দেখালে অভিনয়ের জন্য ডাক পাই। কিন্তু সে সময় অসুস্থ থাকায় কাজটা করা হয়নি। পরে একটা মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রথমবার টিভিপর্দায় আসা হয়। এরপর আরো কিছু বিজ্ঞাপন করেছি।
এই যে এত এত কাজ করছ, এরজন্য পড়ালেখার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না?
তাইফ : না। পড়ালেখাই আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এর পাশাপাশি শিডিউল মিলিয়েই মিডিয়ার কাজগুলো করি সবসময়। আর শ্যুটিংয়ে যাওয়ার সময় আমি ব্যাগে করে বই নিয়ে যাই। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে অনেকসময় পড়ালেখা করি বা ড্রয়িং করি।
শ্যুটিংয়ে যেতে বেশি ভালো লাগে নাকি স্কুলে যেতে?
তাইফ : স্কুলে যেতেও ভালো লাগে। তবে শ্যুটিংয়ে বেশি ভালো লাগে। ওখানে অনেক বড়ো জায়গা জুড়ে খেলাধুলা করতে পারি। শ্যুটিংয়ের আঙ্কেলরা চাইলেই আমাকে চকলেট খেতে দেয়। সবাই আমাকে অনেক আদর করে। শ্যুটিংয়ে সবাই আমাকে আফ্রিদি বলে ডাকে। আমার চুলগুলো নাকি ক্রিকেটার আফ্রিদির চুলের মতো, তাই!
এবার বরং তোমার পছন্দগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। আমি র্যাপিড ফায়ার গেমের মতো একটা করে ক্যাটাগরির নাম বলছি, তুমি তোমার পছন্দগুলো ঝটপট জানিয়ে দাও—
পছন্দের খাবার :আইসক্রিম, চকলেট (ক্যাটবেরি)।
পছন্দের রং :রেড।
পছন্দের পোশাক :রেড টিশার্ট, ব্ল্যাক জিন্স আর রেড স্যু। তবে সেগুলো অবশ্যই ব্র্যান্ডের হতে হবে।
পছন্দের জায়গা :বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্ট। আমি খেতে অনেক পছন্দ করি তো তাই। ভাইয়া বলেছে, শ্যুটিং করে আমি যে সম্মানীগুলো পাই, তার পুরোটাই নাকি আমার রেস্টুরেন্টের বিল দিতেই খরচ হয়ে যায়।
পছন্দের খেলা :ক্রিকেট।
এতগুলো পছন্দ সম্পর্কে জানলাম। এখন যদি এমন একটা বিষয় জানতে চাই, যেটা তোমার একেবারেই অপছন্দ, সেটা কোনটা?
তাইফ :(হেসে হেসে) স্কুল থেকে যে হোমওয়ার্কগুলো দেওয়া হয়, সেটা আমার একদমই পছন্দ না। ইচ্ছে হয় নিজের চুলগুলো বসে বসে নিজেই ছিঁড়ে ফেলি। কিন্তু আমার চুলগুলো আমার ভীষণ প্রিয়, তাই হোমওয়ার্কগুলো করতেই হয়।
শুনলাম, তোমার বড়ো ভাইয়া তাশদীদও এবার অভিনয়ে আসছে? তোমার জনপ্রিয়তা তো তাহলে কমে যেতে পারে!
তাইফ :(হেসে হেসে) আমাকে সবাই অনেক আদর করে দেখে ভাইয়াও খুব জেলাস ফিল করে। ঘুমানোর আগে রোজ তাকে অভিনয়ে নেওয়ার জন্য আমার কাছে বায়না ধরে। তাই আমি যেন শান্তিমতো ঘুমাতে পারি, সেজন্যই এবার ভাইয়াকে অভিনয়ে নিলাম।
কলকাতার বিখ্যাত সিরিয়াল ‘নেতাজী’তে তোমার মতোই একজন ছোট্ট অভিনয়শিল্পী অঙ্কিত মজুমদার সুভাষ চন্দ্র বোসের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছে। চেনো ওকে?
তাইফ :হ্যাঁ চিনি। আম্মু আমার অভিনয় যেন আরো ভালো হয়, সেজন্য আমার বয়সী যারা খুব ভালো কাজ করে তাদের অভিনয় দেখতে বলে সবসময়।
তোমাকেও যদি অঙ্কিতের মতো এমনই কোনো একজন বিখ্যাত মানুষের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয়, তবে কোন চরিত্রটিকে তুমি বেছে নিতে চাইবে?
তাইফ :এমনটা হলে খুব মজা হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। আমি জানি, বঙ্গবন্ধুকে ছোটবেলায় খোকা বলে ডাকা হতো। তবে শেখ রাসেলও আমার প্রিয়।
আচ্ছা, তুমি তো এখনো বেশ ছোট। শ্যুটিংয়ের জন্য তো দূরের অনেক জায়গাতেও যেতে হয় তোমাকে। তখন কে যায় তোমার সঙ্গে?
তাইফ :সবসময়ই আম্মুর সঙ্গে শ্যুটিংয়ে যাই। আম্মুই আমাকে প্রতিটা বিষয়ে গাইড করে। আম্মু না থাকলে এতকিছু আমি করতেই পারতাম না।
তোমার তো এখন অনেক ভক্ত আছে। সেইসঙ্গে আমাদের কচি-কাঁচার আসর পাতারও নিয়মিত অনেক ভক্ত আছে। সাক্ষাত্কার শেষে সকলের উদ্দেশে কি কিছু বলতে চাও?
তাইফ :সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন ছোটবেলার মতো আমার বড়বেলাটাও এমনই সুন্দর হয়। আর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার দুষ্টুমি সহ্য করার জন্য।
স্বাগতম তাইফ। তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা এবং ভালোবাসা রইল কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে।
