পার্থের নতুন স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সাত উইকেট হাতে রেখে ১৫৪ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারী ভারত। ব্যাটসম্যানদের হাত ধরে চলছে ভারতের লড়াই। পার্থ টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিজেদের ইনিংস শুরু করে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৭২ রান করেছে সফরকারী ভারত।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম দিন শেষে ৯০ ওভারে ছয় উইকেটে ২৭৭ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দলের পক্ষে তিন ব্যাটসম্যান মার্কাস হ্যারিস (৭০), অ্যারন ফিঞ্চ (৫০) ও ট্রাভিস হেড (৫৮) হাফ সেঞ্চুরি করেন। দিন শেষে অধিনায়ক টিম পেইন ১৬ ও প্যাট কামিন্স ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
পেইন ও কামিন্স দ্বিতীয় দিন নিজেদের ইনিংসটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি। পেইন ৩৮ ও কামিন্স ১৯ রানেই থেমে যান। লোয়ার অর্ডারের কেউই দু’অংকে পৌঁছাতেও পারেননি। ফলে বাকি ৪ উইকেটে ৪৯ রান যোগ করে ৩২৬ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। এছাড়া দু’টি করে উইকেট নেন জাসপ্রিত বুমরাহ, উমেশ যাদব ও হানুমা বিহারি।
লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়ে নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার মুরালি বিজয়। এরপর মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় ভারত। বিরতি থেকে ফিরে অন্য ওপেনারকেও হারায় টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হবার আগে মাত্র ২ রান করেন লোকেশ রাহুল। ৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে মহাবিপদে পড়ে ভারত।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। অ্যাডিলেড টেস্টের সেরা খেলোয়াড় চেতেশ্বর পূজারা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি শুরুর ধাক্কা ভুলে যাবার লড়াই শুরু করেন। তাতে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তারা। জুটিতে ৭৪ রান যোগ করতে পারেন পূজারা ও কোহলি। তবে রান তোলায় সতর্ক ছিলেন পূজারা। ২৪ রানে আউট স্টার্কের শিকার হন পূজারা। এ সময় দলীয় স্কোর ৮২।
পূজারা ফিরে যাবার পর ক্রিজে কোহলির সঙ্গী হন আজিঙ্কা রাহানে। ক্রিজে গিয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন রাহানে। প্রতিপক্ষ বোলারদের লাইন ও লেন্থ নষ্ট করাই ছিল রাহানের প্রধান লক্ষ্য। তার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। কোহলির সাথে জমে উঠে রাহানের জুটি। দু’জনেই হাফ সেঞ্চুরি পান।
৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন কোহলি ও রাহানে। জুটিতে ৫১ রান ছিল রাহানের, কোহলির ছিল ৩৯। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৮২ রানে অপরাজিত কোহলি। ১৮১ বলের ইনিংসে নয়টি চার মারেন তিনি। এই ইনিংসটা সেঞ্চুরির ঘরে নিতে পারলেই চলতি বছরে বাংলাদেশের মুমিনুল হককে টপকে একক ভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক বনে যাবেন কোহলি।
অন্যদিকে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৩ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৭ তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৫১ রানে অপরাজিত আছেন আজিঙ্কা রাহানে। মিশেল স্টার্ক দু’টি ও জশ হ্যাজেলউড একটি করে উইকেট নেন।
