আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে চালু হইল অনলাইন পরিদর্শন কার্যক্রম বা ই-মনিটরিং ব্যবস্থা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে আমরা কতদূর অগ্রসর হইয়াছি, তাহার অন্যতম দৃষ্টান্ত এই ই-মনিটরিং ব্যবস্থা। ইহার মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা সৃষ্টি এবং ক্লাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়াইতে সক্ষম হইবে বলিয়া আশা করা যায়। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইহার উদ্বোধন করা হয়। ইহার ফলে এখন হইতে স্কুলে হাজির হইয়া স্মার্টফোন বা ট্যাবে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ব্যবহার করিয়া নির্দিষ্ট অ্যাপস খুলিয়া প্রয়োজনীয় তথ্য ছক পূরণপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করিতে হইবে অনলাইনে। ইহাতে নিজ নিজ ক্লাস্টারের (অধিভুক্ত) স্কুল পরিদর্শনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের সরেজমিনে উপস্থিতি হইবে বাধ্যতামূলক। আগে অনেকে স্কুলে না গিয়া বাড়িতে বা অফিসে বসিয়াই রিপোর্ট পাঠাইয়া দিতেন। এখন স্কুলে না গেলে জিপিএস পদ্ধতির কারণে তিনি ধরা পড়িয়া যাইবেন। কেননা জিপিএস এমন এক পদ্ধতি যাহা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোন এলাকায় অবস্থান ও তাহার সময় নির্দেশ করিয়া দেয়। অনলাইনে প্রতিবেদন দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে তাহা উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভাগের উপ-পরিচালক, মহাপরিচালক এমনকি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই দেখিতে পারিবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালকে প্রাথমিক স্তরের ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের ভিত্তি বত্সর’ হিসাবে ঘোষণা করা হইয়াছে। সেই হিসাবেও এই ই-মনিটরিং ব্যবস্থাকে আগাইয়া নেওয়া হইতেছে। ২০১৫ সালে গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে এই সিস্টেম চালু হয়। পরে ২০১৬-১৮ সাল পর্যন্ত আরও ৮০টি উপজেলায় তাহা সমপ্রসারিত হয়। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৬৪ জেলা হইতে তৈরি করা হইয়াছে মাস্টার ট্রেইনার। গত বত্সর অনেক থানার শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হইয়াছে ট্রেনিং । ফলে এইসব থানা এখন পরিণত হইয়াছে পেপারলেস মনিটরিং এলাকায়। ইহাতে মাঠ পর্যায়েও পরিদর্শন কার্যক্রমে সময় ও পেপার ওয়ার্ক কমিয়া গিয়াছে। ইহার ফলে শিক্ষাবিষয়ক নীতি নির্ধারকগণ আরও সহজে অগ্রাধিকার শনাক্ত করিতে পারিতেছেন। শিক্ষা বিভাগের কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ ও কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট কাজের ফলাফল মূল্যায়নে সহায়তা করিতেছে ই-মনিটরিং।
জানা মতে, সারা দেশে প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রহিয়াছে। এতগুলি বিদ্যালয় মনিটরিং করা একটি জটিল কাজ। অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ই-মনিটরিং ব্যবস্থা এখন সেই কাজটিই সহজ করিয়া দিতেছে। স্কুল পর্যবেক্ষণের সারসংক্ষেপ এবং গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য ওয়েবভিত্তিক ড্যাশবোর্ডে আপলোড করা হইতেছে। সার্ভারে তথ্য আপলোডের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগ তাহা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাইতেছেন। প্রযুক্তির এই সদ্ব্যবহার সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের আরো দায়িত্বশীল হইতে উত্সাহিত করিবে। শিক্ষার মানোন্নয়নেও এই ই-মনিটরিং ব্যবস্থা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবে নিঃসন্দেহে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ঝরিয়া পড়া ও শিক্ষকদের ফাঁকি রোধে তাহা কার্যকর পদ্ধতি হিসাবেও বিবেচিত হইবে। এই ধরনের ই-মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং বিভাগেও চালু করা যাইতে পারে।
