রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নের উপর দিয়ে বান্দাইখাড়া-মিরাট-নওগাঁ রাস্তার শ্রীমতখালী খালের উপর হামিদপুর ঘাটে নির্মিত ব্রিজটি নির্মাণের মাত্র পাঁচ/সাতদিনের মাথায় দেবে ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও এই খালের উপর নতুন করে নির্মিত হয়নি কোনো ব্রিজ। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ইজারাদারকে টাকা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ওই এলাকার মানুষের চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি’র আওতায় ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়। টেন্ডারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে ব্রিজ নির্মাণ শুরু করে। নির্মাণের পর সাটারিং খুলে দিলে মাত্র পাঁচ/সাতদিনের মাথায় ব্রিজের মাঝের পিলার দেবে ভেঙে যায়।
ওই এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস ছাত্তার জানান, প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে ১০ টাকা করে ইজারাদারকে দিতে হচ্ছে। পথচারী খোরশেদ আলম, আবু হাসান, সেকেন্দার আলীসহ অনেকেই জানান, প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে পারাপার হতে ইজারাদারকে তিন টাকা দিতে হয়। দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘাট ইজারাদার সুমিত্রা রাণী চৌধুরী জানান, তিনি স্থানীয় মিরাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘাটটি একবছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন। সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে প্রতিজন তিন টাকা, প্রতিটি মোটর সাইকেল/ভ্যান ১০ টাকা এবং বাইসাইকেল থেকে পাঁচ টাকা নেন। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছেন।
রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক কোটি ৭৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে দিয়েছেন। খালে পানি থাকায় আপতত কাজ বন্ধ রয়েছে। খালের পানি শুকানোর পর আবারও কাজ শুরু হবে।
