ভোক্তা অধিকার

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৪৫

অ্যানালগ পাল্লা ব্যবহার করে লোক ঠকানোতে আজিজ পাটোয়ারীর জুড়ি নেই। মাপার সময় আজিজ পাটোয়ারী তার কনুইয়ের সুনিপুণ স্পর্শে পাল্লার মালামালের অংশটা নিচের দিকে অনেকখানি নামিয়ে ফেলত। কালক্ষেপণ না করে মুহূর্তেই সেটাকে হাতে ধরে নিয়ে হয় পলিথিনে নয়তো ক্রেতার ব্যাগে চালান করে দিত সে।

এলকার সবগুলো দোকানে ডিজিটাল বাটখারা দিয়ে ওজন পরিমাপ করা হলেও, আজিজ পাটোয়ারী যেন গো ধরে বসে আছে।

আবার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পলিথিনের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও পলিকাগজের অন্তর্ভুক্ত আজিজ পাটোয়ারী কখনো কাগজের ঠোঙ্গার দিকে হাত বাড়ায়নি।

সেই আজিজ পাটোয়ারীর হঠাত্ কী হলো কে জানে! নতুন একটা ডিজিটাল বাটখারা কিনে এনেছে। দোকান থেকে পলিকাগজও উধাও। কাগজ তো কাগজ, একেবারে মোটাকাগজের ঠোঙ্গায় ভর্তি করে ফেলেছে দোকান।

সেদিন বাজার করার জন্য আজিজ পাটোয়ারীর দোকানে গিয়ে হিরু টাসকি খেল যেন। ঠোঙ্গায় পেঁয়াজ নিয়ে কাটায় কাটায় এক হাজার গ্রাম মিলিয়ে তারপরেই না পণ্যটা তুলে দিল হিরুর বাজারের ব্যাগে।

‘আজকাল সূর্যের বদলে দিনের আকাশে চাঁদ আলো দিয়ে বেড়াচ্ছে নাকি?’ হিরু মৃদু খোঁচা মারার চেষ্টা করল।

আজিজ পাটোয়ারীর এখন সুেদিন। সে হিরুর কথাটিকে সহজভাবে নিতে পারলো না। ‘ভোক্তা অধিকার অনুযায়ী তুমি কিন্তু মোটেও ঠকোনি।’

‘সে তো দেখতেই পেলাম।’ হিরু মুচকি মুচকি হাসছে।

আজিজ পাটোয়ারী ইতস্তত বলল, ‘এতদিন মাপে কম দিতাম ঠিকই, কিন্তু এখন আমি ব্যবসার ক্ষেত্রে খুবই সিরিয়াস।’

হিরু হেসে বলল, ‘এতটাই সিরিয়াস যে, আগে পেঁয়াজের শুকনো খোসাগুলো ফেলে দিতে, আর এখন না ফেলে পেঁয়াজের সাথেই বিক্রি করে দিচ্ছ।’

আজিজ পাটোয়ারী বিগলিত হাসি দিয়ে বলল, ‘পেঁয়াজ এখন সোনার চে দামি। সোনা বিক্রি হয় কিসে?’

জানা সত্ত্বেও হিরু মজা করে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘কিসে?’

‘সোনা বিক্রি হয় গ্রামের থেকেও ক্ষুদ্র মিলিগ্রামে। এক ক্যারেটে কত মিলিগ্রাম জানো? মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম।’

‘জানলাম। কিন্তু...’

‘আবার কিসের কিন্তু?’

‘তোমার কথা অনুযায়ী তুমি প্রতি কেজি সোনায় ৫০০ ক্যারেট করে খাদ মেশাচ্ছ!’

‘৫০০ ক্যারেট! খাদ! সোনা! এই, এই, এসব কী বলছ হিরু?’

কিছু না বলে হিরু মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।

আজিজ পাটোয়ারী বুঝলেও না বোঝার ভান করে বলল, ‘আমি আবার সোনা বিক্রি করছি কবে থেকে?’

‘সে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা খেলেই বুঝবে।’

আজিজ পাটোয়ারী বুঝতে পারল, হিরুকে লামছাম বুঝিয়ে কাজ হবে না, তাই দোকানের ভেতর থেকে পলিকাগজে ভর্তি একেবারে ফ্রেশ দেখে এক কেজি পেঁয়াজের একটা পোটলা বের করল।

আজিজ পাটোয়ারী চতুর পাবলিক। সে জানে পলিথিন দেখে হিরু উল্টো-সিধে কিছু বলে বসতে পারে। সে হিরুকে আর মুখ খুলতে দিতে চাইছে না। দ্রুতহাতে হিরুর সথে করে আনা বাজারের ব্যাগ থেকে আগের কাগজের ঠোঙ্গার প্যাকেটটা বের করে নতুনটা ঢুকিয়ে দিল।

 

 

দুই.

পেঁয়াজের কেজি দুশ অতিক্রম করার পর থেকে এলাকার মানুষজন সবাই একটি বিশেষ সুপারশপের খোঁজে আছে। কিছুদিন আগে যখন বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ১২০-১৩০, তখন তারা বিজ্ঞাপন দেয়—দুঃসময়ে ব্যবসা নয়, স্বস্তি হয়ে পাশে থাকছে তারা, জনগণের দুঃসময়ে মাত্র ১৪৫ টাক করে পেঁয়াজ বিক্রি করবে।

লোকজন এখন তাদের রিয়েল দুর্দিনে এই সুপারশপটিকে চোখে গগলস লাগিয়ে আর হাতে হারিকেন নিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

কিন্তু যখন হতাশ হয়ে সবাই ফিরে এলো, তখন পাড়ার সাধারণ মুদি দোকানগুলোই হয়ে উঠল তাদের আশা-ভরসার মূল স্থল।

আজিজ পাটোয়ারী পেঁয়াজে খাদ (খোসা) মিশিয়ে বিক্রি করছে দেখে লোকজন প্রথম প্রথম মারাত্মক ক্ষেপে গিয়েছিল। মাইর লাগাবে—এমন অবস্থাই হলো তখন।

কিন্তু ধুরন্ধর আজিজ পাটোয়ারী সবাইকে মুলা দেখাল। সে নাকি কারোরই ভোক্তা অধিকার হরণ করছে না। বেশ গর্ব করেই বলল, ‘কই! কেউ প্রমাণ দিক আমি পেঁয়াজে অতিরিক্ত কিছু মিশাচ্ছি কিনা। প্রমাণ করতে পারলে ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানা গুনতে রাজি আছি।’

‘তুমি মিয়া কিছুমিছু মেশাও না ঠিক আছে, কিন্তু কিছু আইমিন আবর্জনাগুলো তো সরাচ্ছও না।’ একজন ক্রেতা অভিমানের সুরে বলল।

আজিজ পাটোয়ারী ব্যঙ্গ করে বলল, ‘এই খোসাগুলোসহই আমি পেঁয়াজ কিনি। তাছাড়া, মালে ভেজাল জাতীয় কোনো কিছু মেশানোতে নিষেধাজ্ঞা আছে জানি, মালামাল থেকে কিছু না সরানোও যে দণ্ডনীয় তা তো শুনিনি।’

উপস্থিত লোকজন বুঝতে পারল, পাকা ব্যবসায়ী আজিজ পাটোয়ারীর সঙ্গে কথায় তারা পারবে না।

 

তিন.

লোকজন ঠিক করল আজিজ পাটোয়ারীর দোকান থেকে অন্যসব কিনলেও কেউ আর পেঁয়াজ কিনবে না। ওর সবগুলো পেঁয়াজ যখন শুকিয়ে কেবল খোসায় রূপ নেবে, তখন বেচারা বুঝবে ঠ্যালা! মাগনা দিলেও তখন কেউ তার ওই পেঁয়াজের খোসা কিনতে যাবে না।

কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে না ঘুরতে পাবলিকই উল্টো পল্টি নিল! জাত ব্যবসায়ী আজিজ পাটোয়ারী তার দোকানে বিশেষ মূল ছাড়ের অফারের নোটিস ঝুলিয় দিয়েছে। পাবলিক এমন—সরাসরি দোকান থেকে যা তিরিশ টাকায় কিনতে পারে, সেটাই অনলাইনে বা অন্য কোথাও যদি নব্বই পার্সেন্ট ছাড় আর স্পেশাল ক্যাশব্যাক অফারে মাত্র ৪৫০ টাকা পায়, তাহলে তাই কিনবে।

তারা আজিজ পাটোয়ারীর এই প্রতি কেজি পেঁয়াজে ২ টাকা ছাড়ের ‘হট অফার’ নিতে দলে দলে এসে ভিড় জমাতে শুরু করল। তাদের বক্তব্য, ‘আজিজ পাটোয়ারী পেঁয়াজে খাদ মেশায় থুড়ি খোসাসহ পেঁয়াজ বিক্রি করে সত্য, কিন্তু সেই খোসার ওজন দুই টাকার সমান না। বড়োজোর এক টাকা-টোকা হতে পারে। সুতারং এখান থেকে পেঁয়াজ কেনা মানে জিত আছে আছে!’

 

চার.

সেদিন বিকেলে আজিজ পাটোয়ারী হিরুকে চলতি পথ থেকে থেকে নিজের দোকানে নিয়ে বসাল। মনটা বেশ ফুরফুরে তার।

‘তুমি মিয়া এই কাজটা করলেও পারতা।’

‘কোন কাজ?’ হিরু জানতে চাইল।

‘আরে, পেঁয়াজের ব্যবসা। জানো—আমার পাটোয়ারী নাম বদলে এখন আমি সবার কাছে বেপারি নামে পরিচিত হতে চলেছি, আজিজ পাটোয়ারী নয়, আজিজ বেপারি।’

‘তাতে কী এমন কীর্তি সাধন হলো শুনি?’

‘এককালে পেঁয়াজ বিক্রেতা ছিলাম বলে জরিনার বাপ ওর সাথে আমার বিয়া দিলেন না। অথচ দেখো, এখন জরিনার বিসিএস ক্যাডার স্বামী তার ছেলের জন্য আমার মেয়েকেই পছন্দ করেছেন। আমার মতো পেঁয়াজের বেপারি শ্বশুর ক’জন মিলবে, বলো?’

‘তা পাওয়া মুশকিলই বটে।’

‘তবে, তুমিও যদি এই লাইনে মানে পেঁয়াজের ব্যবসায় নামতে, তাহলে আমি ওই সম্বন্ধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখতাম।’

হিরু আজিজ পাটোয়ারীর ইঙ্গিত বুঝতে পারল। আজিজ পাটোয়ারীর কন্যা বেশ সুন্দরী। আর, ইদানীং পেঁয়াজের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য যেন দিনকে দিন বেড়েই চলেছে! অনেকে বলে, বাবার পেঁয়াজের ব্যবসা আছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। পেঁয়াজ দিয়ে রূপচর্চা তো আর সবাই করতে পারে না! সেই পেঁয়াজের বেপারি আজিজ পাটোয়ারী পরোক্ষভাবে হিরুকে তার মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলল।

হিরু অবশ্য ফাঁদে পা দিলো না। বলল, ‘শুনেছি, তোমার মেয়ের হবু বর নাকি ক্ষমতাশালী আমলা। তা, আমাকে বেপারি হতে বলে আমলার দ্বারস্থ হচ্ছো কেন? অন্য কোনো বেপারির খোঁজ করতে পারো না?’

চা খাওয়া শেষ। হিরু উঠে চলে যাচ্ছিল। পেছন থেকে চিন্তিত আজিজ পাটোয়ারীকে বলতে শোনা গেল, ‘হিরু, ইয়ে মানে... তুমি কিন্তু আমাকে ‘তুমি’ না বলে আপনি সম্বোধন করলেই পারো!’

 

পাঁচ.

আজিজ পাটোয়ারী ব্যবসা যে ক্রমান্বয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে, তার প্রমাণ মিলল খুব শীঘ্রই। মুদি দোকানের পাশাপাশি একটা রেস্টুরেন্টও খুলে বসল। সেটাকে আবার ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’ বলে প্রচার করতে লাগল। চাইনিজ রেস্টুরেন্ট হলেও সেখানে নুরুদের জন্য সিঙ্গারা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, সিঙ্গারার সাথে পেঁয়াজ দিয়ে অল্প ক’দিনেই ব্যবসা তুঙ্গে তুলে ফেলল। এলাকার অন্যসব হোটেরে ব্যবসা দুদিনেই লাটে উঠল।

একদিন আজিজ পাটোয়ারী হিরুকে অফার করল, ‘হিরু, তুমি আমার মেয়ের সাথে খেলে, তোমাদের থেকে কোনো বিল রাখা হবে না। তোমার জন্য এটা স্পেশাল অফার।’

পরদিনই আজিজ পাটোয়ারীর বিবাহযোগ্য কন্যাটি হিরুকে অনুরোধ করল, হিরু যেন তার সঙ্গে একবারের জন্য হলেও এই নব্য চালুকৃত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খায়!

বাধ্য হয়ে হিরুকে রাজি হতে হলো। সেখানে আজিজ পাটোয়ারী কন্যা হিরুকে প্রোপোজ করল এবং তত্ক্ষণাত্ হিরুর থেকে প্রত্যাখ্যাত হলো।

এরপরই দেখা গেল অন্য নাটক। ওখান থেকে বেরোনোর সময় দেখা গেল—সেখানে নতুন ও অপরিচিত একজন লোক ম্যানেজারির দায়িত্ব পালন করছে। বিল না দিয়ে সে কিছুতেই হিরুকে ছাড়বে না। হিরুর স্পষ্ট মনে আছে—ওরা যখন দোকানে ঢুকছে, তখনো আজিজ পাটোয়ারীই কাউন্টারে বসা ছিল। বোধহয়, মেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউটার্ন নিয়েছে!

 

ছয়.

নিরাপত্তার জন্যে আজিজ পাটোয়ারী রেস্টুরেন্টে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে। তাছাড়া, ব্যবসা এতটাই চাঙ্গা যে, রেস্টুরেন্টের সামনের খোলা জায়গাটাও ব্যবহার করছে সে।

সেদিন হিরু ওর বন্ধুুবান্ধবসহ সেখানে বসে চাইনিজ স্যুপ খাচ্ছিল। এমন সময় বিল্ডিংয়ের উপরের কোনো এক ফ্লোর থেকে এক পাটি জুতা এসে পড়ল ওর স্যুপের বাটিতে। হিরু আর মুহূর্তকাল অপেক্ষা করেনি। ভোক্তা অধিকার আইনে আজিজ পাটোয়ারীর চাইনিজ রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিল। ম্যাজিস্ট্রেট খুবই করিত্কর্মা লোক। অল্প সময়ের ভেতরেই তিনি চলে এলেন।

আজিজ পাটোয়ারী ভেবেছিল এটা বুঝি হিরুর চাল। সে চটজলদি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চালু করল। সেখানে দেখা গেল—একজন বেয়ারা হিরুকে বাটিতে করে স্যুপ দিচ্ছে। এর পরের দৃশ্যেই সেই বাটিতে স্যুপের পাশাপাশি একপাটি জুতাও দেখা গেল! মাঝখানের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও গায়েব। ওসময়ে বিদ্যুিবভ্রাটি ছিল। হাতে-নাতে তো বটেই ফুটেজসহ ধরা পড়ল আজিজ পাটোয়ারী। সে মিছুমিছু দিয়ে হিরুর সঙ্গে মীমাংসায় আসতে চাইল, ‘ইয়ে, তুমি সেদিন যে বিলটা দিয়ে গেছিলে তার দ্বিগুণ ফেরত দিচ্ছি।’

‘দিন।’

আজিজ পাটোয়ারী টাকাটা দিলে সেটা হিরু দ্রুতহস্তে পকেটে চালান করল। এবার ম্যাজিস্ট্রেটকে বলল, ‘আমাদের আগের একটা মামলার মীমাংসা হলো। আপনি প্লিজ আজকের ভোক্তা অধিকার হরণের বিষয়টির সমাধান করুন।’

আজিজ পাটোয়ারীকে তত্ক্ষণাত্ দু লক্ষ টাকা জরিমানা করা হলো। ক্যাশ, ব্যাংক, এমনকি বাড়ির লকার, বালিশ-কোলবালিশ হাতড়ে একলক্ষ নিরানব্বই হাজার নয়শত আটাইনব্বই টাকা পাওয়া গেল। দুই টাকার শর্ট।’

‘এক পয়সাও কম হবে না। আইন আইনই। নাহলে দোকান বন্ধ হবে।’ হিরু ভয় দেখাল।

আজিজ পাটোয়ারী মিনমিন করে বলল, ‘হিরু, তুমি তো এই টাকার চারভাগের একভাগ আইমিন পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে যাবে। তুমি দুটো টাকা কম নাও।’

‘তা হবে না।’

‘তাহলে দুই টাকা পরে নিও।’

‘তাও হবে না।’

আজিজ পাটোয়ারী দিশেহারা।

হিরু তখন বলল, ‘কম নিতে পারি, তবে একটা শর্ত আছে।’

‘যেকোনো শর্ত মানতে রাজি আছি আমি।’ আজিজ পাটোয়ারী উপায়হীন।

হিরু লাজুক কণ্ঠে বলল, ‘যে করেই হোক আমাকে ওই জুতার বাকি পাটিটা ম্যানেজ করে দিতে হবে। জুতাটা বেশ পছন্দ হয়েছে আমার...।’

 

প্রিয় পাঠক, আজ এই পর্যন্তই। আজিজ পাটোয়ারীর সেই জুতা জোড়ার দ্বিতীয় পাটিটা হিরুকে জোগাড় করে দেওয়ার (পড়ুন—চুরি করে আনার) গল্পটা আপনাদেরকে নাহয় আরেকদিনই বলব। আপনারা আবার ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করে বসবেন না, কেমন!