আমি কলা গাছ গুনছি দেখে নাহিদা বেগম ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল, ‘বৃষ্টির দেখা নেই আবার বন্যার আশা করে!’
আমি তার কথা শুনে হা হা হা করে হেসে উঠে বললাম, ‘বৃষ্টি হতে কতক্ষণ? বন্যা হতে কতক্ষণ? দেখছ না পাশের দেশ থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে!’ আমার কথা শুনে সে মুখ বাঁকা করে চলে গেল। আমি একটু বন্যা হলেই ভেলা বানানোর ফন্দি আঁটি। কারণ নাহিদা ভেলা চড়তে খুব পছন্দ করে।
কয়েক বছর আগে বন্যার সময় একটা দৃশ্য মনের আয়নায় ভেসে উঠণর। যে বন্যায় ভেলায় বসিয়ে সে ভেলাকে আমি প্রেমের ভেলায় রূপান্তরিত করেছিলাম। মনে আছে কয়েক বছর আগে যখন বন্যা এসেছিল, তখন নাহিদা আমার কলার ভেলায় উঠেছিল। নাহিদাকে আমার বাহাদুরি দেখাতে গিয়ে, ওকে ভেলায় বসিয়ে আমি বন্যার পানিতে গা ভাসিয়ে ভেলা ঠেলেছিলাম। ও শুধু হেসেছিল। ওর হাসি দেখে আমিও হেসেছিলাম। তবে হাসতে গিয়ে মুখে বন্যার পানি ঢুকে গিয়েছিল। পরে পেটও গণ্ডগোল করেছিল।
কলাগাছ যা আছে, তা দিয়ে মোটামুটি ভেলা হয়ে যাবে। নাহিদা বেগম আবার এলো। আমি ওকে দেখে জানতে চাইলাম, ‘বন্যা আসলে কী আবার ভেলা বানাব?
‘ভালো হবে। তবে আপনার মতো কাঁচা মাঝির ভেলায় আমি আর উঠব না!’ সে উত্তর দিল।
‘কেন?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘যে মাঝি পানিতে নেমে ভেলা চালায় তার ওপর ভরসা করা যায় না!’
‘ভরসা না পেলে কী আর আমার ঘাড়ে চেপে বসেছ?’ বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম আমি।
সে এবার দাঁত মুখ খিঁচে বলল, ‘কে জানত সে প্রেমের ভেলায় ফেঁসে যাব?’
ফেনী
