ঠিক আছে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৫

 

অফিসের বসকে খুশি করার চেষ্টা আমাদের সবার মধ্যেই কমবেশি আছে। সবাই চায় ঊর্ধ্বতনের মনোরঞ্জন করতে। এতে অনেক প্রকারের সুবিধা পাওয়া যায়। সুযোগ পেলেই আমরা তা করতে ছাড়ি না। এতে সবসময় যে উপকার হয় তা কিন্তু নয়। অনেক সময় হিতে বিপরীতও হয়। এ যেমন দেখুন সেদিনের ঘটনা।

আমরা সবাই গেলাম এক কলিগের বাসায় দাওয়াতে। আমি গেলাম কলিগ আসিফ সাহেবকে নিয়ে। আসিফ সাহেব এমনিতেই খুব মাইডিয়ার। দাওয়াতে অফিসের সেকেন্ড স্যারও গেলেন তার দু বছরের ছেলে নিয়ে। আমরা সবাই বাচ্চাকে আদর করছি। ছেলেটিও দেখতে বেশ নাদুসনুদুস। আসিফ সাহেব আমাদের চেয়েও বেশি। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নিজের দামি মোবাইলটি হাতে দিল। বাচ্চাও খুশি। একটা কার্টুন চালু করে দিল। স্যারের বাচ্চা তো আনন্দে আত্মহারা। স্যার মনে মনে ভাবছে, যাক ছেলের দুষ্টামিটা তো কমল। স্যারও খুশি, আসিফও খুশি!

এ বাচ্চা তো মোবাইল আর ছাড়ে না! নিলেই কান্না করছে। এদিকে ইফতারের সময় হয়ে যাচ্ছে। ইফতারের বিভিন্ন আইটেম আসা শুরু করেছে। সবার সামনে শরবত রাখা হয়েছে। বাচ্চা শরবত দেখে ‘মাম’ বলে গ্লাসের দিকে লাফ দিল। সাথে সাথে হাতে মোবাইল গিয়ে পড়ল গ্লাসে! এসব ঘটল চোখের পলকেই। মোবাইল শরবতের জলে হাবুডুবু খাচ্ছে, আর বাচ্চাটি হি হি করে হেসে উঠল! আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি তাকালাম আসিফ সাহেবের দিকে। মনে হলো অধিক শোকে পাথর হওয়া মুখ! স্যার আফসোস করলেন। আসিফ কোনো রকমে মুখে পাঁচ টাকা দামের হাসি মুখে এনে বলল, ‘না, না, স্যার ঠিক আছে। বাচ্চা মানুষ, কিছু হবে না।’

আসিফের মুখ দেখে বুঝতে পারলাম কিছুই ঠিক নাই। মোবাইলের দাম ত্রিশ হাজার টাকা!

পটিয়া, চট্টগ্রাম