টেকেরহাট (মাদারীপুর) সংবাদদাতা
পলিথিন, ময়লা, আবর্জনাসহ সমস্ত উচ্ছিষ্টের ভাগার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার রাজৈর পৌরসভার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সুফী জোনাবালী খালটি। জলাবদ্ধ পানি আর উচ্ছিষ্ট পচে অসহনীয় উত্কট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে খালের দুই পাশের অতি ঘনবসতি বাসিন্দাদের বসবাসে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ছড়াচ্ছে নানা রোগব্যাধি।
লিখিত অভিযোগে এলাকার বাসিন্দারা জানান, ১০ বছর আগে টেকেরহাট মিল্কভিটার কাছে কুমার নদ থেকে খালের উত্স মুখ বন্ধ করে টেকেরহাট-রাজৈর উপজেলার সদর বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে সুফী জোনাবালী খালটি জলবদ্ধতায় পরিণত হয়। পাশাপাশি খালের জায়গা দখল করে পাকা বা আধাপাকা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে ক্রমেই খালটি আরো সরু ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, খালের উত্সমুখ বন্ধ করে দেয়ার কারণে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির দুই পাশের প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে বোরো ধানসহ সেচ কেন্দ্রিক অন্যান্য ফসল উত্পাদন হুমকির মুখে পড়েছে। এক সময়ের স্রোতস্বিনী এ খালটি কুমার নদের রাজৈর পৌরসভার টেকেরহাট বন্দর থেকে পূর্ব সরমঙ্গল গ্রামের মধ্যদিয়ে মালিকুরি বিল হয়ে দোদারা খালে গিয়ে মিশেছে।
রাজৈর পৌর এলাকার শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, খালের পাড়েই তার বাসা। খালের পচা দুর্গন্ধে বাসায় থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় বাইরে বাইরে কাটালেও রাতে ঘরে ঘুমানো দুস্কর। ফলে সুগন্ধ স্প্রে করে ঘরে থাকতে হয়। আল হেড়া কিন্ডান গার্ডেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল আবুল হাসিম সেপাহী জানান, দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পৌর মেয়রকে অবহিত করেছি।
এলাকার প্রবীণ মোঃ মজিবর কাজী জানান, এ ব্যাপারে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে অবহিত করা হলে তিনি খাল পরিষ্কার করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সী জানান, শিগগিরই খালের নদী মুখ খুলে দেয়া হবে। এতে পানি প্রবাহ সৃষ্টি হবে এবং ময়লা আবর্জনা ভেসে যাবে। ফলে দুর্গন্ধ কমে যাবে। তবে খালের অবৈধভাবে দখলে যাওয়া জায়গা উদ্ধার করা কষ্টকর।
