ফের উত্তেজনার আগুন গাজায়

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩৫

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা গত কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সরকার আরো একবার সম্মুখ সমরে নেমে গেল। গত সপ্তাহে ইসরাইলি সেনার রকেট হামলায় মৃত্যু হয়েছে গাজা ভূখণ্ডের জিহাদি সংগঠন ‘ইসলামিক জেহাদ’-এর শীর্ষ নেতা বাহা আবু আল-আট্টার। যার জেরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে ফের। দুই দেশই একে অপরকে নিশানা করে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের হামলায় মোট ৩২ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যাও অনেক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আবুর স্ত্রী। সেই সঙ্গে হামলায় ‘ইসলামিক জেহাদ’-এর বেশ কিছু সদস্যও মারা গিয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনের পালটা হামলায় ইসরাইলে আহত হয়েছেন ২৫ জন। তবে তাদের কারও আঘাত খুব গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে দেশটি।

একই দিন হামলা চলেছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কেও। সেখানে মৃত্যু হয় দুই জনের। আহত হয়েছেন ছয় জন। সিরিয়ার আসাদ সরকারের অভিযোগ, ইসরাইলই ঐ হামলা চালিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি জেরুজালেম। ‘ইসলামিক জেহাদ’-এর এক মুখপাত্রের বক্তব্য, দামেস্কেও নিশানায় ছিল সিরিয়ায় ‘ইসলামিক জেহাদ’-এর সামরিক নেতা আক্রম আল-আজৌরি। রকেট পড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে তার দোতলা বাড়ির ওপরের তলাটি। তবে হামলায় আল-আজৌরির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ফিলিস্তিনের হামাস গোষ্ঠী গোটা অভিযানের সমালোচনা করে ‘ইসলামিক জেহাদ’-এর পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ আবুর শেষ ক্রিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হাজির ছিলেন তার প্রচুর সমর্থক। তাদের মুখে ছিল ‘প্রতিশোধ’-এর শ্লোগান। খালেদ আল-বাতশ নামে এক নেতা বলেন, ‘একসঙ্গে সিরিয়া আর গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এটা কার্যত যুদ্ধেরই ঘোষণা।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জাতিসংঘও। সংগঠনটি ইসরাইলে আরো বড়োসড়ো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সমপ্রতি দুই দেশের সংঘাতে মধ্যস্থতা করেছিল জাতিসংঘ এবং মিশরের সরকার। হামলার খবর পেয়েই জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার দূত শান্তিচুক্তি নিয়ে বৈঠক করতে কায়রো রওনা হয়েছেন। দুইপক্ষের হামলার জেরে বন্ধ হয়ে যায় সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো। প্রাণ বাঁচাতে বেশির ভাগ মানুষই এখন বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। ইসরাইলের অভিযোগ, ফিলিস্তিন থেকে শয়ে শয়ে রকেট হামলায় চালানোয় তারা বাধ্য হয়ে এটি করেছে। দেশটির দাবি, তাদের বাণিজ্য কেন্দ্র তেল আভিভ পর্যন্ত পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি রকেট।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত আবুকে ‘টাইম বোমা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন নেতা যত জন্ম হবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে ইসরাইল। এই ইস্যুতে দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রায়েডম্যান টুইটারে লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনের জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক জেহাদ ইরানের মদতে ইসরাইলের ওপরে শতাধিক রকেট হামলা চালিয়েছে। বন্ধু পক্ষ ইসরাইলের পাশে আমরা সব সময় আছি।’

এর আগেও বহুবার ইসরাইলি রকেট হামলায় গাজার অগণিত নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। প্রতিবারই দেশটি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হামাসের রকেট ছোড়ার অজুহাত দেয়।