আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়াতে আল্টিমেটাম

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখনো যারা বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে অবস্থান করছেন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে দু’দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে সরে না দাঁড়ালে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নির্দেশ অমান্য করে একক প্রার্থীর বিরোধিতা করলেও দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় রাজনৈতিক দলগুলো। জানা গেছে, এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ৭৯ জন। এরমধ্যে নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে ৩২ জন বাদ পড়েন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২৩ জন বিদ্রোহী স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে মাঠে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সংখ্যা মাত্র ১৪ জন।

গত ৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়নবঞ্চিত ৩৭৮৩ জনের কাছে খোলা চিঠি পাঠান। নির্বাচনে নিজ দলের যারা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চিঠিতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আপনারা মহাজোটকে বিজয়ী করতে কাজ করুন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারো নেই।’ প্রথমে বোঝানো, পরে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার চিঠি এবং বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েও কাজ না হওয়ায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

গতকাল শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যাওয়ার পথে ফেনীর দাগনভূঞায় যাত্রাবিরতির সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করুন, দ্রুত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঠিক একই সময়ে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। এটা দেড় ডজন নয়, আরও অনেক কম।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে নিজ দল আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা এখনো রয়েছেন তাদের ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সরে দাঁড়াতে হবে এবং সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানাতে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে মহাজোটের এ সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে। তাদের অবশ্যই আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের প্রার্থীর সপক্ষে ভোটের মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নতুবা আমরা সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের নির্বাচনকালীন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এদিকে বিদ্রোহীদের যারা সমর্থন করবে তাদেরও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। মোট কথা দল-জোট মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করলেই সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার। কুড়িগ্রাম-৩ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের অভিযোগে এবং সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রের ৪৬(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে দল থেকে কেন চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানো নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসের জবাব আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগও বিদ্রোহী ও তাদের সমর্থকদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করছে।

দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান। তিনি দলের সভানেত্রীর অনুরোধ অমান্য করে তত্পরতা চালানোর কারণে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফুর রহমানকে সমর্থন করার অপরাধে তার আপন ভাই রিয়াজউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এমদাদুল হক খান, মো. আরিফ উল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ উদ্দিন পলাশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের এক বর্ধিত সভায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এটা জানানো হয়।