শ্রীলঙ্কার বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে অবশেষে তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে গত সাত সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক সঙ্কটের অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সমর্থক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে পদত্যাগপত্রে সই করেন রাজাপাকসে। দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে পদত্যাগ করেছেন বলেছেন তিনি জানিয়েছেন।গত ২৬ অক্টোবর রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এরপর তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন। তবে তার বরখাস্ত অবৈধ উল্লেখ করে বিক্রমাসিংহে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙে দিলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। বিক্রমাসিংহের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তাকেই আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করাতে রাজি হয়েছেন। আজ রবিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।
এর আগে শুক্রবার রাজাপাকসের ছেলে এক টুইট বার্তায় বলেছিলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার স্বার্থেই তার বাবা শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল পদত্যাগ করার পর এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ৭৩ বছর বয়সী এই রাজাপাকসে বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে নতুন সরকার গঠনের পথ করে দিয়েছেন। মূলত পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থাকায় চাপের মুখে পড়েন সিরিসেনা ও রাজাপাকসে। বিক্রমাসিংহের দলসহ আরও দুটি দল প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ও নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়।
