আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঢাকা জেলার ২০টি আসনে বড় দুই রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত প্রচার-প্রচারণায়। তারা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ভোট ও ভোটারদের নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা
এলাকাবাসীর ভাগ্যের
উন্নয়ন ঘটাতে চাই
আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)
আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ঢাকা-১৭
ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী ও ভাষানটেক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসাবে পরিচিত এই আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)। তিনি বলেন, এ এলাকার মানুষ নৌকাকে ভালোবাসেন। আমি নিজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখেছি, এই আসনের মানুষেরা ১৭ বছর ধরে অবহেলিত। এখানে কখনো খালেদা জিয়া ছিলেন, কখনো এরশাদ ছিলেন, কিন্তু এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। অনেক বছর পর মানুষ নৌকা প্রতীক পেয়েছে। আমি নিশ্চিত তারা নৌকাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। ফারুক আরো বলেন, এখানকার মানুষদের প্রধান সমস্যা হলো আবাসন সমস্যা, রাস্তাঘাটের অভাব এবং জলাবদ্ধতা।
দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে
আনতে চাই
আন্দালিব রহমান পার্থ
ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, ঢাকা-১৭
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, দেশে এবার যে প্রেক্ষিতে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠুভাবে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। গায়ের জোরে যারা ক্ষমতায় বসেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই প্রার্থী ঢাকা-১৭ ছাড়াও ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ধানের শীষ না পেয়ে ভোলা-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ওই আসনে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তরুণ ভোটারদের
কাছে যাচ্ছি
সাদেক খান
আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ঢাকা-১৩
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানককে হঁটিয়ে দিয়ে এবার ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন সাদেক খান। তিনি বলেন, এই প্রথম সংসদ নির্বাচন করছি। তাই আমরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার অবস্থান সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে। নির্বাচিত হলে এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করা হবে।
সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা আর মাদকবিরোধী শ্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এই নেতা। উঠান বৈঠক, জনসংযোগসহ নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের উন্নয়নের পক্ষে থাকতে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। সাদেক খান বলেন, আমরা এই এলাকায় কয়েক পুরুষ ধরে থাকি। তাই স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রবীণরা আমাদের চেনেন। আমাদের সম্পর্কে জানেন। কিন্তু যারা এ এলাকার নতুন বাসিন্দা, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছেই আমাদের মূল প্রচারণা। তিনি বলেন, তরুণ ভোটাররা নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করবে।
উন্নয়নের স্বার্থে আমাকেই
বেছে নেবেন এলাকাবাসী
আসলামুল হক, আওয়ামী
লীগ প্রার্থী, ঢাকা- ১৪
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হক। প্রতিদিনই এলাকায় জনসংযোগ করছেন বর্তমান এই এমপি। তিনি বললেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় গত দশ বছরে প্রচুর উন্নয়ন কাজ হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় এলাকার রূপ বদলে গেছে। এলাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আবারো আমাকেই এলাকাবাসী নির্বাচিত করবেন বলে আশা রাখি। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি, সেইসঙ্গে জনগণের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে আমরাই বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।
প্রসঙ্গত, আগে মিরপুর আর পল্লবী এলাকা নিয়ে ছিল ঢাকা-১১ আসন। ২০০৮ সালে সীমানা সংস্কার হয়ে শাহ আলী-দারুস সালাম-রূপনগর থানা ও সাভারের কাউন্দিয়ার আংশিক নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৪ আসন। ১৯৯১ সালে আসনটিতে জয়লাভ করেন বিএনপির এস এ খালেক। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার পাস করলেও ২০০১ সালে পুনরায় জয়লাভ করেন এস এ খালেক।
মিরপুরকে আদর্শ এলাকা
হিসেবে গড়ে তুলতে চাই
সৈয়দ আবু বকর সিদ্দীক
বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-১৪
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দীক। বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, মিরপুরবাসী আমাদের পরিবারকে ভালোবাসেন। আমার বাবা এস এ খালেককে ভালোবাসেন। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে টানা ৫ বার এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সুখে-দুঃখে আমাদের পাশে পান। আশা করি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারা আমাকে বিজয়ী করবেন।
আবু বকর বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে আমি রাজধানীর অন্যতম আদর্শ এলাকা হিসেবে মিরপুরকে গড়ে তুলব। যাতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকার মধ্যে মানুষ বসবাস করার সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে মিরপুরের উন্নয়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, ভালোভাবে গণসংযোগে নামতে পারছি না। শুক্রবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধে গিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করি। কিছুক্ষণ পরেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে। সেখানে আমার ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়।
ধরপাকড়ের ভয়ে পোস্টার
টাঙাতে পারছি না
আব্দুস সালাম
বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-১৩
বাংলাদেশ জাতীয়তা-বাদী দল-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপ-দেষ্টা আব্দুস সালাম দলের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের যেভাবে গ্রেফতার করছে তাতে সবাই ভয়ে আছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও খুব ভয় পাচ্ছি। ধরপাকড়ের ভয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে পারছেন না। তিনি বলেন, গত বুধবার সকালে আমরা ৫/৬জন নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম সচিবের সঙ্গে দেখা করতে। ফেরার পথে দলের মোহাম্মদপুর থানা সভাপতি ওসমান গণি শাহজাহানকে ডিবি পরিচয়ে ধরে নিয়ে গেছে। পরে আবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সচিবকে ঘটনা জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। অথচ ওসমান গণির বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই।
সালাম আরো বলেন, ধরপাকড়ের কারণে আমরা এখনো পোস্টারই টাঙাতে পারছি না। কর্মীদের পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা হলে আমরা কীভাবে নির্বাচন করব। আমাদের জানিয়ে দিলেই হয়, বিএনপিকে নির্বাচন করতে দেবে না।
