চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যের খবর পুরনো। বিভিন্ন সময়ে দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এবং নিজ দলের প্রতিপক্ষের সাথে ভাব বিনিময় এমনকি বন্ধুত্ব হতেও দেখা গেছে। চলমান সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় তা যেনো নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচারণার মাঠে কোলাকুলি করেছেন। নিজের জন্য প্রতিপক্ষের কাছে ভোট চেয়েছেন।
গত কয়েকদিনে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এমন কয়েকটি ঘটনার খবর মিলেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাউজানে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে নৌকার প্রার্থী এবিএম ফজলে করিমের সাথে দেখা হয় ধানের শীষের প্রার্থী জসিম সিকদারের। এসময় তারা পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। একে অপরের কাছে ভোট চান। এ সময় দুই প্রার্থীর সাথে থাকা নেতাকর্মীরাও একে অপরের সাথে ভাব বিনিময় করেন। এর আগে ফজলে করিমের সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরীও বিএনপির ওই প্রার্থীর কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।
একই দিন পটিয়া আসনের মহাজোট প্রার্থী শামসুল হক চৌধুরীর সাথে বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক এনামকে কোলাকুলি করতে দেখা গেছে। তারাও একে অপরের কাছে নিজের জন্য ভোট চেয়েছেন। তাদের কোলাকুলির সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এর কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সাথে চট্টগ্রাম-৯ আসনের নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরীর দেখা হয়। এই দুইজন দুই আসনের প্রার্থী হলেও একে অপরকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন। এ বিষয়ে মহিবুল হাসান বলেন, ‘রাজনীতিতে শিষ্টাচার খুবই গুরত্বপূর্ণ বিষয়। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সব সময় রাজনৈতিক সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন কিছুটা আলাদা। এ জন্য সবকিছু ছাপিয়ে শিষ্টাচার সামনে আসে।’
তবে আনোয়ারা, সীতাকুন্ডসহ কয়েকটি আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা এখনো পর্যন্ত এই ধরণের হামলার কথা স্বীকার করেন নি।
