সাটুরিয়ায় ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারিতে দুর্নীতি

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:১৬

ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির ক্ষেত্রে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় চলছে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম আর হয়রানি। ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষের দাবি মেটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন জমির মালিকেরা। সাটুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি তহশিল অফিসে ঘুষ দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। যে ঘুষ দেবে তার ফাইলে সই হবে। নচেত্ বছরের পর বছর ঘুরতে হবে। এখানে সরকারি কোনো আইন মানা হচ্ছে না। যার কাছ থেকে যত আয় করা যায়। সরকারি আইনে আছে খারিজ প্রতি খরচ ১১৫০ টাকা। অথচ এখানে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে জমি খারিজ হয় না। অল্প ঘুষ দিলে ঘুরতে হবে কয়েক মাস।

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের জমি খারিজে নামজারি ও জমা ভাগে প্রচুর টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ পেলে ভেজাল জমিও খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগও মিলেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের রাইল্যা মৌজায় আরএস ২২৫ নম্বর খতিয়ান ৩২৯ নম্বর দাগের ১৭ শতাংশ ভূমি থেকে মো. ফারুক হোসেন ২১.৫০ শতাংশ ভূমি গত ১-১২-২০০১ইং তারিখে নাম খারিজ করে নেন। যার নামজারি ও জমাভাগ কেস নম্বর ১৭০/২০০০-০১ইং। ঐ দাগের জমির পরিমাপ থেকে ৪.৫০ শতাংশ বেশি জমি নাম খারিজ দেওয়া হয়েছে। এদিক ঐ মৌজায় আরএস ২২৫ নম্বর খতিয়ান ৩২৯ দাগের মধ্যে কোনো জমি না থাকলেও ৬৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে রাইল্যা গ্রামের মো. সোনা মিয়ার ছেলে ফরিদউল রহমান ৩২৯ দাগের ৪.১৬ শতাংশ ভূমি গত ১৮-০৯-২০১৯ইং তারিখে নামজারি জমাভাগ করে নেয়। যার নামজারি ও জমাভাগ কেস নম্বর ১৭৪৯/২০১৮-১৯ইং। একই ব্যক্তি ঐ দাগ থেকে আবারও ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ৪.১৬ শতাংশ ভূমি গত ২৪-১০-১৯ ইং তারিখে নামজারি ও জমাভাগ করে নেয়, যার কেস নম্বর ২২২/২০১৯-২০ইং।

অপরদিকে একই ইউনিয়নে কৃষ্ণপুর মৌজায় আরএস ১০৮ নম্বর খতিয়ান ৫৩১,৫৩২ নম্বর দাগে ৩৯ ও ১৩ মোট ৫২ শতাংশ ভূমির কাতে ৩৫.৫০ শতাংশের মালিক নুর বকস ও হালিমা নেছা। নুর বকস মিয়ায় ছেলে মো. চেনু মিয়া ও রিপন মিয়া গত ৫-৫-২০১৯ ইং তারিখে- ৫৩১ দাগের ৩৯ শতাংশ কাতে ৩০ শতাংশ ও ৫৩২ দাগের ১৩ শতাংশ কাতে ৫.৫০ শতাংশ মোট ৩৫.৫০ শতাংশ ভূমি নামজারি জমাভাগ করে নেয়, যার নামজারি ও জমাভাগ কেস নম্বর ১২৯৬/২০১৮-১৯ইং। এই জুত থেকে তাদের অংশ খারিজ করে নেওয়ার পর ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ঐ দাগের বাকি অংশ গত ১২-৯-২০১৯ইং তারিখে চেনু মিয়া ও রিপন মিয়া ৫৩১ দাগের ৩৯ শতাংশের কাতে ৯ শতাংশ ও ৫৩২ দাগের ১৩ শতাংশের কাতে ৭.৫০ শতাংশ ভূমি নামজারি ও জমাভাগ করে নিয়েছে, যার নামজারি ও জমাভাগ কেস নম্বর ৩৪৭/২০১৯-২০ইং। ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন প্রতারণা করে নানা খরচের কথা বলে এলাকার কয়েক জন দালালের মাধ্যমে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) উম্মে কুলসুম সম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব অভিযোগ সত্য নয়। তবে ফুকুরহাটি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেনের দুর্নীতিটা বেশি মাত্রায় হওয়ায় বদনামটা সকলের ঘাড়ে পড়েছে। অভিযোগ পেয়ে নামজারি ও জমাভাগ কেস নম্বর ৩৪৭/২০১৯-২০ইং বাতিল করা হয়েছে। ঐ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।