হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে নগরীতে নির্বাচনী আমেজ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের গণসংযোগের পাশাপাশি পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে অলি-গলি। তবে প্রচারণায় এখনো মহাজোট প্রার্থীদের তত্পরতা চোখে পড়ার মতো। প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর কিছু কিছু অংশে লাগানো হয়েছে সারিসারি পোস্টার, সাদাকালো ব্যানার। অন্যদিকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন সময় তাদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এতোদিন নগরীর ছাপা কারখানাগুলো অলস বসে থাকলেও, এখন বেশ কয়েকটি ছাপাখানায় চলছে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানোর কাজ। নগরীর লিংক রোড ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়ক জুড়েই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানের পোস্টার। নগরীর ১ নং রেলগেট এলাকা, থানাপুকুর পাড়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এসএম আকরামের পোস্টার লাগানো। নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক ও আশেপাশের গলিতে সারিসারি মই মার্কার এবং হাতপাখার পোস্টার ও ব্যানার লাগানো। এছাড়া সিপিবি, বাসদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় মাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
গত ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শহরে প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা। তবে অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানে প্রচারণা এখনও কম। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণা শুরু করলেও বিএনপি ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এর মধ্যে বুধবার একটি কর্মীসভার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের প্রার্থী এসএম আকরাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। জাকের পার্টির মহানগর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের মনোনীত প্রার্থী মোর্শেদ হাসান জামাল তাদের দলের নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসনে আমরা ২ প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করি। এখনো আমাদের ব্যানার, পোস্টার ছাপানো শেষ হয়নি। তবে ২, ৩ দিনের মধ্যে পোস্টার ছাপানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের মনোনীত প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম তার দলের নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রতীক থাকায় আমরা ১০ ডিসেম্বরের আগেই পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে রাখি। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আমাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী বলেন, ‘কিছুদিন যাবত্ কিছু কিছু প্রচারণা চালালেও শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছি আমি।’ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী বলেন, ‘আমি চাঁদপুর-৫ আসন ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন মোট ২টি আসনে নির্বাচন করছি। শনিবার কদমরসুল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি আমি।’
