শর্মীর হাতের কারুকাজ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৬

  মাহবুব নাহিদ

 

আঁকা আর নকশা করা তার কাছে যেন খুবই সহজ একটা কাজ। হাতের সামনে যা পান তাতেই চালান তার কর্মদক্ষতা। অদিতি হাফিজ শর্মীর জন্ম খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নারিন্দা গ্রামে। মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন খুলনায়। তার বাবা হাফিজুর রহমান পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত আছেন আর মা শাপলা রহমান একজন গৃহিণী। তিনি ঢাকায় তার বোনের বাসায় থাকেন।

ছোটোবেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে ভালো ছিলেন। তার আগ্রহ দেখে বাবা এক কালারের চাদর এনে দিতেন। তিনি কলম দিয়েই তাতে রং করতেন। কাগজে তিনি ছবি আঁকতেন জলরং, ওয়েল পেস্ট, পেনসিল দিয়ে। তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে যে কাউকে দেখেই পোট্রেট তৈরি করতে পারেন। আর তার সবচেয়ে দারুণ সৃষ্টি হচ্ছে কচুপাতায় ছবি আঁকা। যে বিষয়টি কেউ কোনোদিন ভাবতেও পারে না সেই কাজটাই তিনি করেছেন। জলরং দিয়ে কচুপাতায় আঁকেন তিনি। তিনি বাটি, জুতা, মোবাইলের ব্যাককভার, ড্রেসসহ সব ধরনের জিনিসেই আঁকতে পছন্দ করেন। তিনি জুয়েলারি আর্টেও দারুণ পারদর্শী। এছাড়া তিনি ব্লক, বাটিক ডিজাইনের কাজ পারেন। সাবান, ফিতা, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের সাধারণ জিনিসপত্র দিয়ে তিনি তৈরি করেন অসাধারণ সব শোপিচ বা নকশা। তিনি গ্লাস আর্ট, চুমকি পুঁতির কাজ করে থাকেন। তিনি ফেলে দেওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জিনিস দিয়ে সুন্দর সুন্দর নকশা তৈরি করেন। ফেলে দেওয়া ম্যাচের কাঠি, চা দিয়েও তিনি তৈরি করেন তার নকশা।

তার আরেকটি অনবদ্য সৃষ্টি হচ্ছে ধারাবাহিক ছবি দিয়ে গল্প বা গান তৈরি করা যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেতে বাধ্য। তিনি নটর ডেম আর্ট কার্নিভালে দ্বিতীয় হবার গৌরব অর্জন করেন। পুরস্কার নয়, মানুষের মনের ভালোবাসা অর্জনই তার মূল লক্ষ্য। তিনি চান তার মাধ্যমে আরো নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি হোক। চলার পথে বাবা-মা, আপু-দুলাভাই তাকে অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।