>> মামুনুর রশিদ রাজিব
৪৮ বাই ৬০ ইঞ্চি সাইজের একটি ছবি। ছবিটি শাঁখারি বাজারের কোনো এক গলির। কিন্তু প্রশ্ন উঠল, ছবিটি আঁকা নাকি ক্যামেরায় তোলা? এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি হলো। আলোচনা শুরু হলো সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। এক কথায় ভাইরাল হলো ছবিটি। অনেকে বিশ্বাসই করতে চাননি এটি হাতে আঁকা। কিন্তু অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য হলেও এটিই সত্য যে, ছবিটি আসলেই একটি তৈলচিত্র। আর এই নিখুঁত তৈলচিত্রের চিত্রকর হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী হেলাল শাহ।
তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা থানার ছোট্টমুল্লুক গ্রামের আমির উদ্দিন শাহ ও জাহানারা বেগমের আদরের সন্তান। হেলাল শাহ ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা পান বড়ো ভাই দুলাল হোসাইন শাহ ও মেজো ভাই বেলাল হোসাইন শাহের কাছ থেকে। বড়ো ভাই দুলাল হোসাইন পড়েন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। হেলাল শাহ রাজশাহী অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১৫ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি ভালো ছবি আঁকার সাধনা করতে থাকেন। এদিকে চারুকলা অনুষদের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার্ষিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই বার্ষিক প্রদর্শনীতে অংশ নিতে থাকেন। তার আঁকা ছবি প্রথম দু বছর ভালো কোনো অবস্থান না নিতে পারলেও তৃতীয়বারে তার লঞ্চ/জাহাজ ঘাটের ছবিটাই প্রথম স্থান অর্জন করে। আর এই বছর তার আঁকা তৈলচিত্র চারুকলা অনুষদের বার্ষিক প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অধিকার করে জিতে নেয় ‘বেস্ট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’।
কথা হয় এই উদীয়মান তরুণ চিত্রশিল্পীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ঢাকার তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তব চিত্রের অঙ্কনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত বছর একটা লঞ্চঘাটের তৈলচিত্র এঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের বার্ষিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী-২০১৯-এ প্রথম স্থান অর্জন করি। আর এবার শাঁখারি বাজারের একটা ছবি আঁকি। শাঁখারি বাজারের এই ছবিটি নিতে আমি প্রায় সারাদিন সেখানে অবস্থান করে ক্যামেরায় অনেক ছবি তুলে এর মধ্য থেকে এই ছবি ভালো লাগায় এটিরই তৈলচিত্র অঙ্কনে অগ্রসর হই। এই ছবিটি আসলে দুপুরবেলার দিকে তোলা ছিল। আর এই কাজে আমার প্রায় বিশ দিন সময় লেগেছে।’ তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার বিষয়ে আরো বলেন, ‘আমার আঁকা তৈলচিত্রের এমন অর্জন এবং মানুষের ভালোবাসা আসলে ভালো কাজের করার প্রতি দায়বদ্ধতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। চিত্রশিল্পী হিসাবে নিজেকে আসলে অনন্য উচ্চতায় দেখার প্রত্যয়েই প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করে যাব।’
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ তার অন্তর্গত আটটি বিভাগের মধ্য আলাদা আলাদাভাবে এই চিত্রকর্ম প্রদর্শনী করে আসছে। তাছাড়া গত বছর থেকে প্রতিটি বিভাগের এই প্রদর্শনীর পর চারুকলা অনুষদের সকল বিভাগের বিজয়ীদের নিয়ে শিল্পী জয়নুল আবেদিনের নামে আয়োজন করা হয় আরেকটা প্রদর্শনী।
