নাট্যাধার উত্সবে রূপসুন্দরী

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫০

মা হ বু ব  আ ল ম

 

সিরাজগঞ্জের নাট্যাধার আয়োজন করেছে ৮ দিনের নাট্যোত্সবের। আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে উত্সবটি শেষ হবে ১ ডিসেম্বর। তাদের এবারের নাট্যোত্সবে নাট্যলোক সিরাজগঞ্জ তাদের নতুন প্রযোজনা নাটক ‘রূপসুন্দরী’ পরিবেশন করবে। নাট্যকার মাহবুব আলম রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনিক কুমার সাহা। আগামী ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর শহীদ এম মনসুর আলী মিলনায়তন মঞ্চে ‘রূপসুন্দরী’ নাটকের মঞ্চায়ন হবে। নাট্যাধারের এই উত্সবের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ আর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোহাম্মদ নাসিম।

সামাজিক স্বীকৃতি না থাকলে নারীর ঠিকানা আসলে কোথায়? জমিদারের ঔরসজাত সন্তান সুন্দরী, কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি না থাকায় তাকেও পড়তে হয় জমিদারের লালসার নজরে। সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে সুন্দরীর মা সুন্দরীকে পরামর্শ দেয় বাড়ি ছেড়ে পালাতে। সুন্দরী তার মায়ের পরামর্শে বাড়ি ছেড়ে নিজের রূপ লুকিয়ে ছদ্মবেশে ঘুরতে থাকে নানা জায়গায়। বান্নির মেলায় তার সাক্ষাত হয় ছলিমের সঙ্গে। ঘটনাক্রমে সে আশ্রয় পায় ছলিমের বাড়িতে। আবার সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তাদের বিয়েও হয়। বিয়ের পরে উন্মোচিত হয় তার আসল পরিচয়। শঙ্কা কেটে যায় সুন্দরীর আর রূপ উন্মুক্ত হয়। কিন্তু যে শঙ্কায় সে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় পায় ছলিমের কাছে, সেই শঙ্কায় সে আষ্টেপৃষ্ঠে পতিত হয় এবার। তালুকদারের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সুন্দরীর রূপে। তালুকদারের রোষানলে পুড়ে প্রাণ যায় ছলিমের; প্রাণ যায় সুন্দরীর! পুণ্ড্র নগরীর এক লোকগাথা করতোয়া নদীতে শীলাদেবীর আত্মাহুতি আর তার লাশ ভেসে ওঠার স্থানে গড়ে ওঠা বান্নির মেলা। নাট্যকার মাহবুব আলম শীলাদেবীর এক পরিবর্তিত রূপ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন ভিন্ন প্রেক্ষাপট রচনার মধ্যে দিয়ে।

রূপসুন্দরী নাটকে নাট্যকার মাহবুব আলম তুলে ধরেছেন নারীর চিরায়ত একটি নির্যাতনের চিত্র। যুগে যুগে নারীরা কিভাবে ভোগবাদী পুরুষের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে তারই গল্প অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে চিত্রিত করেছেন নাটকে। আর নির্দেশক অনিক কুমার সাহার নির্দেশনার গুণে সেই চিত্র আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

নির্দেশনার পাশাপাশি অনিক কুমার সাহা নাটকের মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনাও করেছেন। রূপসুন্দরী নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন ত্বসিন, তুহিন রহমান, মমিন বাবু, জহুরুল রতন, ফাহি, শাহানা, চিন্ময় সূত্রধর, ফারুক, ইমরান, কাদের, পাপ্পু, দীপু, হাশেম, আদিব, তিতাস প্রমুখ। আবহ সংগীত করেছেন শিশির রহমান। রূপসুন্দরী নাটকের বিভিন্ন অংশে কোরিওগ্রাফি করেছেন ফারহানা কাঙ্ক্ষিতা এবং আলোক পরিকল্পনা করেছেন বিশিষ্ট আলোক নির্দেশক ঠান্ডু রায়হান।

নাট্য উত্সবে নাট্যলোকের ‘রূপসুন্দরী’ নাটক ছাড়াও উদ্বোধনী দিনে থিয়েটার ফ্যাক্টরি প্রদর্শন করবে ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’, থিয়েটার অঙ্গন জামালপুরের ‘হীরাবলি’, আয়োজক নাট্যাধারের ‘ছাগতত্ত্ব’, থিয়েটারের নাটক ‘মুক্তি’, অনুশীলন নাট্যদল রাজশাহীর ‘বুদেরামের কূপে পড়া’ এবং নাটোর সাকামের ‘একটি অবাস্তব গল্প’ পরিবেশিত হবে।