পাহাড় সমতলের সংস্কৃতির সমন্বয়

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫২

আহাদুল ইসলাম শিমুল

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

 

পাহাড়-সমতলের সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটেছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর নবান্ন উত্সবে। নবান্ন উত্সব উপলক্ষে গত শুক্রবার দিনভর উপজেলা প্রাঙ্গণে সবাই মেতেছিলেন ভিন্ন এক আনন্দে। অনুষ্ঠানে আগত সবাই ব্যস্ত সময় পার করেছেন পিঠা উত্সবের ১০টি স্টলকে ঘিরে। আর বিকেল হতেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবার ভাঙে আনন্দের বাঁধ। সংগীতপিপাসুদের উপচেপড়া ভিড়ে উপজেলা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয় মুহূর্তেই। ইন্দুরকানীর অধিকাংশ দর্শকের প্রথমবারের মতো পাহাড়ি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। মনোমুগ্ধকর নাচ ও গানের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয় এই আয়োজনে। বিশেষ আকর্ষণ ছিল বান্দরবান জেলা থেকে আগত মারমা ছাতা নৃত্য, বমদের বাঁশ নৃত্য, ত্রিপুরার কলস নৃত্য, মুরং বাঁশিসহ নানা ধরনের স্থানীয় ও পাহাড়ি নৃত্য। শেষে বান্দরবানের জনপ্রিয় শিল্পী মো. শহিদুল আলম ও ইন্দুরকানীর সন্তান চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের শিল্পী রাফসান মান্নান সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন, ইন্দুরকানী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সিকদার, ইন্দুরকানী থানার ওসি হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মনিরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাইদুর রহমান সাঈদ, ইন্দুরকানী বাজার বনিক সমিতির সাধারণ  সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, ইন্দুরকানী প্রবাসী ফাউন্ডেশনের মতিউর রহমান শাহিন প্রমুখ। ইন্দুরকানী উপজেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে এটাই ছিল বৃহত্।—এমন মন্তব্য করেছেন আগত দর্শকরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘সমতলের মানুষকে পাহাড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে দিতেই এই অনুষ্ঠানটি ভিন্ন আঙ্গিকে আমারা সাজাই। ইন্দুরকানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের আরো সংস্কৃতিপ্রেমী করে তুলতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’