বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও চারা তৈরির নেশা ছাড়তে পারেননি সদরের পারুলিয়া গ্রামের সফল চারাব্যবসায়ী ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল। নিজের প্রয়োজনে চারা উত্পাদন শুরু করলেও বর্তমানে সুনাম অর্জন করেছেন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে।
সদর উপজেলার মোহাম্মাদাবাদ ইউনিয়নের পারুলিয়া গ্রামের ৭০ বছরের ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল ১৯৭২ সাল থেকে বিভিন্ন সবজির চারা উত্পাদন করে চলেছেন। আলাপ কালে জানা গেছে, নিজের প্রয়োজনে প্রথমে চারা তৈরি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তা ব্যবসায় রূপ নেয়। ৪০ শতাংশ জমিতে ৪৫ বছর ধরে চারা উত্পাদনে সৃষ্টি করেছেন এক অসাধারণ গল্পের, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সফল চারাব্যবসায়ী হিসাবে। ব্যবসার সফলতায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চালানো, বিয়ের খরচ যোগান দেওয়া ও জমিজমা কেনার পাশাপাশি বাড়িঘরও তৈরি করেছেন।
বীজ বা চারা উত্পাদন সম্পর্কিত তেমন কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতায় তিনি এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন সেবা নার্সারি।
চারা উত্পাদনের খরচ বাদে প্রতি বছর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন বলে জানান ক্ষিতিশ চন্দ্র। বয়স বেশি হওয়ায় চারা উত্পাদনের কাজে বর্তমানে ছেলে মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র মণ্ডল সহযোগিতা করে থাকেন।
ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, অধিকহারে বা উন্নত জাতের সবজির চারা উত্পাদনের জন্য বীজের গুণাগুণ সম্পর্কে জানা এবং উন্নত জাতের বীজ উত্পাদন প্রক্রিয়া শেখার জন্য একটি খামার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষিবিদ সেরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষি উত্পাদনে জয়পুরহাট জেলা শীর্ষে রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।
