কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবমুক্তির পথিকৃত্

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫২

কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবমুক্তির পথিকৃত্। তার ব্যক্তিত্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফসল নয়। তার প্রকৃতি ছিল শিক্ষার মোক্ষম উপকরণ। তার মধ্যে ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা। মানবতা, নৈতিকতা, নান্দনিকতা ও স্বদেশপ্রেম ছিল তার ব্যক্তিত্বের গুণাবলি। বর্তমান সময়ে সমাজের অসংগতি দূর করতে তরুণ সমাজের মধ্যে সুফিয়া কামালের জীবনাদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। গতকাল বুধবার মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে কবি সুফিয়া কামালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই স্মরণসভার আয়োজন করে। শুরুতে কবি সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীতবিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন।

স্মরণসভায় কবিকন্যা মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানিয়ে দাফন করা হয়। এই সম্মান তিনি নিজ কর্ম দ্বারা অর্জন করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর ছিল প্রত্যক্ষ অবদান। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালের প্রতিটি আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তার ছিল প্রত্যক্ষ ভূমিকা। তিনি ‘জননী সাহসিকা’। কারণ মানুষের জন্য যা প্রাপ্য, সেই দাবি আদায়ে তিনি কখনো কুণ্ঠিত হতেন না।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন প্রগতির ধারক ও বাহক। তার মধ্যে ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা। তাকে নিয়ে স্মারকবক্তৃতার আয়োজন করা হয়। ব্যক্তিগত ও জাতীয়ভাবে গবেষণা হয়। এসব যথেষ্ট নয়। আরো গবেষণা হওয়া দরকার।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও মহিলা পরিষদ বর্তমানে যে নারীমুক্তি আন্দোলন করে যাচ্ছে, সেই আন্দোলন চালিয়ে নিতে তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। সুফিয়া কামালের বিষয়ে মূল আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাষা শিক্ষা বিভাগের গবেষক তনুশ্রী মল্লিক বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবমুক্তির পথিকৃত্। বর্তমান সময়ে সমাজের অসংগতি দূর করতে তরুণ সমাজের মধ্যে সুফিয়া কামালের জীবনাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা রুনু দাশ বলেন, তিনি কেবল মহিলা পরিষদ নয়, কচিকাঁচার মেলা ও ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব সংগঠনের পেছনে ছিল তার নিরলস পরিশ্রম। কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর বলেন, সুফিয়া কামালের কর্মপরিধি ছিল বিস্তৃত। তার কাজগুলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে পারলে তারা উপকৃত হবে।

সংগঠনের অ্যাডভোকেসি ও লবি ডিরেক্টর জনা গোস্বামী বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও নার-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। তিনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজের বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন।