এইতো কদিন আগে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা
১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর মোট চ্যানেল ভিউ হয়েছে ৮০ লাখেরও বেশি। এই সাফল্য এসেছে মাত্র ৪৫টা ভিডিও আপলোড করেই
নাজমুস সাকিব
বাবা মার একমাত্র সন্তান মারজিয়া আক্তার মিমির জন্ম এবং বেড়ে উঠা বরিশালে। ভাইবোন না থাকায় ছোটবেলা থেকে একটু বেশিই আদূরে আর চঞ্চল। তবে পড়াশোনাতে ফাঁকি দেননি তেমন। যার ফলে রেজাল্ট সবসময়ই ভালো। বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে সায়েন্স গ্রুপ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছেন জিপিএ ফাইভ। এরপর ঢাকায় চলে আসেন মিমি। আইন বিভাগে ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্টে। ভালো রেজাল্ট ছাপিয়ে মিমির পরিচয়টা দাঁড়িয়েছে ইউটিউবার হিসেবে। একজন নারীর ইউটিউবার হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ জানবার আগে আরও কিছু জেনে নেয়া যাক।
২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে অভিনয়ে যুক্ত হন। মিমি বলেন, সে সময়ের পর পর বেশ কিছু নাটক, ধারাবাহিক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করা হয়েছে। নাটক, টেলিফিল্ম আর ডকু ড্রামা মিলিয়ে এ সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এগুলোর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন যাবে বাড়ি, আজ শুভ দিন, আমিও মানুষ, ছুটির আকাশ, সুষম সারে সফল জীবন, ডাক্তার পাড়া, কার্নিশে ঝুলে থাকা প্রেম, প্রাইভেট টিউটর ইত্যাদি। পরের গল্পটা ইউটিউব।
২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর অনেকটা শখের বসেই প্রাপ্তি নামে একটি ভিডিও আপলোড দেন। মাস দুয়েকের মাথায় চ্যানেল বাতিল হয়ে যায়। চ্যানেল ঠিক করার জন্য ইউটিউব স্পেস মুম্বাই পর্যন্ত ছুটতে হয়। তারপর ২০১৭ সালের মার্চ থেকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড চলতে থাকে। একদিকে ভিউ বাড়তে থাকে; অপর দিকে হু হু করে বাড়তে থাকে সাবস্ক্রাইবার। এইতো কদিন আগে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর মোট চ্যানেল ভিউ হয়েছে ৮০ লাখেরও বেশি। এই সাফল্য এসেছে মাত্র ৪৫টা ভিডিও আপলোড করেই।
মিমি জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেশাদার ইউটিউবারের সংখ্যা কম। ইদানিং বেড়েছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। যদি নারী হিসেবে করা হয়, তাহলে সংখ্যাটা হাতে গোনা। এজন্য শুরুটা ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জের। অনেকে নিরুত্সাহিত করত। অনেক কটুবাক্য হজম করতে হয়েছে। এখনও হয়। এসব কিছুই স্কিপ অথবা ইগনোর করে আগাতে হয়। শুধু ভিডিও কন্টেন্ট সাইট ইউটিউবেই পরিচিতি বাড়েনি, বেড়েছে অন্যান্য সামাজিক সাইটেও। শুধু ফেসবুকে তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। আর ইন্সটাগ্রামে এই সংখ্যা দেড় লাখ ছুঁই ছুঁই।
তবু নিজেকে তারকা মনে করেন না মিমি। বলেন, প্রতিনিয়ত শিখছি। এই শেখা আজীবন চলতে থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ভিডিও তৈরি করেন এই শেখা ও জানার জায়গা থেকে।
কেউ ইউটিউবার হতে চাইলে পরামর্শ কী? জানতে চাইলে তার মন্তব্য, অবশ্যই তাকে প্যাশেনেট হতে হবে। সময় দিয়ে মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। নিয়মিত কাজ করতে হবে। ভিউ কম হলে কিংবা সাবস্ক্রাইবার না বাড়লে মন খারাপ করা যাবে না। যেহেতু এটা একটা উম্মুক্ত প্লাটফর্ম সেহেতু বাজে মন্তব্যে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করা যাবে না। সেটাও মেনে নিতে হবে। মিমির কাছে, একজন নারী চাইলেই দারুণ কাজ করতে পারে। দরকার শুধু মনের জোর আর সাহস। একটু চেষ্টা করলে যেকোনো নারী শুধু ইউটিউব দিয়েই সাবলম্বী হতে পারে।
এতসব কাজ নিয়ে পরিবারের মন্তব্য কী? মিমির সহাস্য উত্তর, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হলো বাবা আর মা। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ও আঙ্কেল খুব সাপোর্ট করেন। সবার দোয়ায় আরও এগিয়ে যেতে চান লাখপতি ইউটিউবার মারজিয়া মিমি।
