রাবেয়া বেবী
সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা ব্যাংক-এর কর্মঘণ্টা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিদের্শ আছে নারী কর্মীদের ঠিক ছটায় ছেড়ে দিতে হবে; কিন্তু নির্দেশ অনুযায়ী তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, ঠিক ছটা কখনো ব্যাংক ছাড়তে পারেন নি শারমীন। কারণ হাতের কাজটা না গুছিয়ে বেড় হওয়া সম্ভব নয়। তাই অফিস ছাড়তে তার প্রতিদিনই ৭টা বেজে যায়- এমন করেই নিজের কাজ নিয়ে বলেন, একটি জনপ্রিয় বেসরকারি ব্যাংকের বিনিয়োগ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন খান। তিনি মনে করেন, সংসার করে নারীর জন্য ব্যাংকে কাজ করা কঠিন হয়, যদি না পরিবারের সহযোগিতা পাওয়া যায়।
শারমীন খান ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর ডেভেলপম্যান্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপম্যান্ট (ডিএফআইডি) প্রজেক্টে কাজ শুরু করেন। ৬ বছরের প্রজেক্ট শেষ হওয়ার দেড় বছর আগে ২০১৩ সালের মে মাসে ম্যানেজম্যান্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগ দেন। ব্যাংকে কেন প্রশ্ন করলে বলেন, ফিন্যান্স বিভাগ যারা পড়াশুনা করেন তারা আলটিম্যাটলি ব্যাংকেই কাজ করেন। তাই সার্কুলার দেখে ইন্টারভিউ দিলে আমার দুইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয় বলে জানান তিনি। পাশপাশি নন ক্যাডারে বিসিএসও হয়ে যায় তার। শারীমন বলেন, আমি মনে করি নন ক্যাডারে বিসিএস-এর চেয়ে ব্যাংকে কাজ করা তুলনামূলকভাবে ভাল, তাই ব্যাংকেই যোগ দেই। একজন নারীর ব্যাংকে কাজ করার চ্যালেঞ্জগুলো কি প্রশ্ন করলে জানান, একজন অফিসারের মধ্যে কোনো নারী পুরুষ ভেদাভেদ নেই। তাই কাজ করে অনেক নারী আজ ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকে কিছু ‘ভিজিট’ আছে। কাজ করলে এই ভ্রমণগুলোকে পাশকাটিয়ে যাওয়া যাবে না। গেলে পদোন্নতিতে প্রভাব পড়বে। আবার টেনিংও আছে, ট্রেনিং-এর জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হবে। এগুলে মেনে নিয়ে কাজ করতে হয়। শরমীন বলেন, আমাদের ব্যাংকে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষাও দিতে হয়। আমি প্রিন্সিপাল অফিসার হওয়ার জন্য পদোন্নতির পরীক্ষা দিয়েছি। দেখা যাক কি হয়। শারমিন জানান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হওয়ার জন্য ইনভেস্টম্যান্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ, জেনারেল ব্যাংকিং-এর সাথে ক্যাশ বিভাগের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকিং-এ ডিপ্লোমা আর এমবিএ করা থকালে একটু বেশি গুরুত্ব পাওয়া যায়। তবে তা অত্যাবশ্যক নয় বলেও মনে করেন তিনি।
বর্তমানে প্রথম সন্তানের মা হওয়ার সুবাদে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন শারমীন। জানান কিছুদিন আগে মা হওয়ারমতো চমত্কার এক অনুভূতির স্বাদ নিয়েছি। এখন ছয়মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়টি মাঝে মধ্যেই ভাবিয়ে তোলে তাকে। কারণ তিনি মনে করেন ব্যাংকিং পেশা নারীদের জন্য নিরাপদ মনে করা হলেও পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে সম্ভব নয়। কারণ এখানে অনেক সময় দিতে হয়। তাহলে কি করবেন, এমন প্রশ্ন করলে জানান- ছুটি শেষ করে ঠিক কাজে যোগ দিবেন। কারণ, অনেকেইতো সংসার করে ব্যাংকে ক্যারিয়ার করছেন।
