একজন নারী হিসেবে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জায়গায় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফিতে যেসব ক্যামেরা ও লেন্স ব্যবহার করা হয় তা অনেক ব্যয়বহুল, যা একজন
গৃহিণীর জন্য সংগ্রহ করা খুবই কষ্টকর
ইফ্ফাত আরা মুনিয়া
আধুনিক এ সময় গৃহকর্মে বুঁদ হয়ে থাকা মানুষটাও দুদণ্ড শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলবার জন্য হলেও ভ্রমণ ভালোবাসে। ভ্রমণ ভালোবাসেনা কিংবা পছন্দ করেন না এসময়ে এসে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। জগত্ জুড়ে বিখ্যাত ব্যক্তিগণ ভ্রমণ নিয়ে দিয়ে গেছেন নানা উক্তি। ইউজিন ফদর বলেছেন, ‘ভ্রমণ পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যার পেছনে অর্থ ব্যয় করে আপনি শুধু ধনী থেকে আরো ধনী হবেন’! ঠিক তেমনই ভ্রমণের সঙ্গেই যেন জড়িয়ে রয়েছে ফটোগ্রাফী। কেউ ছবি নিজে তুলতে ভালোবাসে, কেউ বা ভালোবাসেন মডেল হতে। খুব চমত্কার একটি কথা লিখে গেছেন ইবনে বতুতা, ‘ভ্রমণ প্রথমে তোমাকে নির্বাক করে দেবে তারপর তোমাকে গল্প বলতে বাধ্য করবে’। সেই গল্পই কেউ বলে খাতা কলমে কেউ বা ছবি তোলার মধ্য দিয়ে। তেমনই একজন ভ্রমণ পিপাসু আলোকচিত্রকর ফাতেমা কিবরিয়া লাবণ্য। তিনি একজন গৃহিণী। ছবি তোলা তার শখ। লাবণ্য ছবি তোলার ক্ষেত্রে বন্য পশু-পাখিকে বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছে। ‘কারণ খুব ছোট বেলায় আমার বাসায় নানা ধরনের পাখি ছিল, ছিল খরগোস, মুরগি। বাবার একোরিয়ামে মাছ পুশত। তখন খুব কাছ থেকে এদের আচার-আচরণ দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেই ছোট বেলা থেকেই মনের ভিতর এদের জন্য একটা মায়া, ভালো লাগা কাজ করত। এদের উড়া, খাওয়া, ডানা ঝাপটানো আমাকে আকৃষ্ট করত। মূলত এখান থেকেই আমি বন্য পশু-পাখিকে আমার ছবি তোলার বিষয় হিসেবে বেছে নেই। এছাড়াও আমি প্রাকৃতিক দৃশ্যর ছবি তুলে থাকি। সেটাও প্রকৃতিকে ভালোবেসে।’
এসব তাকে টানে বেশ, তাই ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিটা তিনি বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জায়গায় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফিতে যেসব ক্যামেরা ও লেন্স ব্যবহার করা হয় তা অনেক ব্যয়বহুল, যা একজন গৃহিণীর জন্য সংগ্রহ করা খুবই কষ্টকর। কিন্তু স্বামী যদি সহায়ক হয় তাহলে আর চিন্তার কিছু নাই। তবে সবার ক্ষেত্রে তো এক অবস্থা নয় এবং নাও হতে পারে। আমাদের দেশে বনের সংখ্যা খুবই কম, একজন নারী যখন ক্যামেরা নিয়ে বের হয়, স্বভাবতই সবাই তাকে একটু অন্য চোখে দেখে। আমরা যেহেতু শখ করে ছবি তুলি, তাই এই ক্ষেত্রে কোনো আয় হয় না বরং উল্টো দিতে হয়। যেটা যে কেউ মেনে নিতে চায় না। এটাও উইমেন ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি এর জন্য অনেক বড় বাধা। এর পর আমি যখন বাহিরে বের হই, তখন অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। অনেকে বাঁকা চোখে দেখে। সবচেয়ে বড় কথা মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়, যা একজন মেয়ের জন্য অনেক কষ্টদায়ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনেক কষ্ট করে খুঁজে পাখি বের করতে হয়। একটা কথা বলে রাখি সেটা হলো ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি এর ভিতর শুধু পাখি না অন্যসব বন্য পশু আছে। তাই এইগুলো খুঁজে বের করে, তার ছবি তোলা একজন মানুষের জন্য সত্যি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।’
পরিবার থেকে কেমন সমর্থন পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে লাবণ্য বলেন অনেক বার পরিবার থেকে আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। পরিবারে আমার স্বামী ও দুই সন্তান ছাড়া আমার এই ছবি তোলাকে কেউ ভালো চোখে দেখে না। তার পরও সকল প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এই পর্যন্ত আমার তোলা ছবিগুলোর ১৮টি প্রদর্শনী হয়েছে, পেয়েছি পুরস্কারও।
