মোবাইল ইন্টারনেট যুগের পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগ ব্যবস্থা ফাইভ-জি (৫জি) নিয়ে এখন প্রযুক্তি বাজার থেকে বিশ্ব রাজনীতি সর্বত্রই চলছে আলোচনা। অন্য কোনো মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এতো বেশি বিতর্ক আর হয়নি। ফাইভ জি প্রযুক্তি নিয়ে এতো আলোচনা হওয়ার আরেকটি কারণ এটি টেলিভিশনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় কিনা সেই প্রশ্ন। কারণ টেলিভিশন শিল্পের জন্য বর্তমানে ব্যবহূত স্পেকট্রামের যে অংশ হাতছাড়া হবে তা গিয়ে জমা হবে মোবাইল অপারেটরদের ঝুলিতে।
এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ছয় মাসের মতো চালু হয়েছে ৫জি। আরো কিছু দেশেও চালু হওয়ার কথা রয়েছে ৫জি। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই প্রযুক্তি বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্প। সম্প্রচার জগতে আগামী দিনে টেলিভিশনের আধিপত্য টিকে থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ ৫জি প্রযুক্তিতে টেলিভিশনের সব সুযোগ-সুবিধাই মিলবে স্মার্টফোনে। বরং টেলিভিশনের চেয়ে আরো বেশি সুবিধা সম্বলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে এ ৫জি প্রযুক্তিতে। প্রচণ্ড শক্তিশালী ৫জি একটি ব্যাপকভিত্তিক তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রযুক্তি, যার গতি এতটাই বেশি যে এটা প্রায় একই সময়ে তথ্য পাঠানো এবং এর প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে সক্ষম।
অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ৫জি প্রযুক্তি মানুষের আগামী দিনের জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। এই প্রযুক্তিতে এমন কিছু নতুন সেবা মানুষ পাবে যা বর্তমানে পাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানের অনেক কিছুকেই ৫জি সম্পূর্ণভাবে রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষকে অভিনব অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে। এর ফলে ভবিষ্যতে টেলিভিশনের আবেদন বলতে গেলে শূন্যের কোঠায় নেমে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। টেলিভিশনের কনটেন্ট বা আধেয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে এই ৫জি প্রযুক্তি। প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড়ো দুটি সীমাবদ্ধতা—গতি এবং সীমিত ধারণ ক্ষমতার সমস্যাও দূর করতে পারবে এই ৫জি। এর ফলে আগামী দিনে টেলিভিশন স্টেশনগুলো তাদের আলট্রা-হাই-ডেফিনিশন বা ইউএইচডি টিভি সেট ব্যবহারকারী দর্শকদের জন্য এইচডিআর (হাই-ডাইনামিক রেঞ্জ), এইচএফআর (হাই ফ্রেম রেটস) এবং বিস্তৃত রংয়ের সন্নিবেশ ঘটিয়ে উচ্চমানসম্পন্ন কনটেন্ট পরিবেশন করতে পারবে। সেক্ষেত্রেও টেলিভিশনকে নির্ভর করতে হবে উচ্চ গতির ৫জি প্রযুক্তির ওপর। টিভিগুলো ৫জির মাধ্যমে তাদের খবর, খেলাধুলা, মিউজিক ফেস্টিভ্যালের মতো অনুষ্ঠান যেকোনো স্থান থেকে অত্যন্ত সস্তায় সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। বলা যায়, তখন যেসব টেলিভিশন কোম্পানি ৫জি প্রযুক্তির দ্বারস্থ হবে না তারা সংকটের মুখে পড়বে।
প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্পের অস্তিত্বকে দুইভাবে হুমকিতে ফেলেছে ৫জি। প্রথমত বৈচিত্র্যময় কনটেন্টের ব্যাপক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে ৫জি। ভিজুয়াল কনটেন্টের বিকল্প মাধ্যমগুলো ৫জি প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে টেলিভিশনের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল মিডিয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের অডিও যা কিনা ‘এনজিএ’ বা ‘অ্যাডভান্সড সাউন্ড সিস্টেম’ নামে পরিচিত, ৫জির যুগে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, ৫জির কারণে বহুদিন থেকে নিজেদের জন্য ব্যবহার করে আসা স্পেকট্রাম হারাতে বসেছে টেলিভিশন শিল্প। যেহেতু ৫জি একটি ব্যাপকভিত্তিক প্রযুক্তি, তাই এটি পরিচালনার জন্য অনেক বেশি পরিমাণে স্পেকট্রামের প্রয়োজন হয়। —বিবিসি
