রাজশাহীতে চাল গুদামে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা!

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪২

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীতে চালের দাম কেজিতে চার থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কম থাকায় চালের দাম বেড়েছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তারা বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এমনকি পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে। তাই চালের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধ্যস্বত্বভোগী তথা পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাড়িয়েছে চালের দাম। তারা কৃষক পর্যায় থেকে সস্তায় ধান কিনে চাল তৈরি করে গুদামে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এরপর সুযোগ মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। তাদের কাছে উত্পাদনকারী কৃষক এবং ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহকারী খুচরা ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, নতুন আমন ধান বাজারে আসলে কমতে পারে চালের দাম। তারা জানান, রোপা আমন ধান কাটা শুরুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো বাজারে নতুন চাল আসেনি। তবে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজ আড়তের বিক্রেতা সোলাইমান আলী বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এখানে স্বর্ণা চিকন ৮৪ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে। আটাশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা।    এক সপ্তাহ আগে ছিল ২ হাজার টাকা। এছাড়া আতপ চাল (পোলাও) বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা দরে।

চাল কিনতে আসা জয় নামের এক ব্যক্তি বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে তিন টাকা কেজিতে বেশি নিল চালের দাম। ব্যবসায়ীরা তাকে জানিয়েছে, সরবরাহ কম তাই বেড়েছে চালের দাম।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নাজমুল হক ভুঁইয়া বলেন, রাজশাহীর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে খোলাবাজারে চাল বিক্রির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।  বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করবেন ডিলাররা। তাই চাল নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।