‘পাঠ্য পুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা’

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:০৫

নতুন প্রজন্মের মৌলিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত সময়োপযোগী থাকা এবং বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রসঙ্গে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান

শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত সময়োপযোগী থাকতে হবে এবং বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আর তখনই প্রজন্মের মৌলিক শিক্ষার যে অধিকার, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশে যে ডিজিটালাইজেশনের কথা আমরা শুনছি তা কার্যত হচ্ছে এই শিক্ষাক্ষেত্রেই। সরকারের এটুআই প্রজেক্ট, যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত, সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী শিক্ষাদান ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। আমি উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে আরও কাছ থেকে উপলব্ধি করছি। আমাদের শিক্ষর্থীরা এখন সাধারণ ব্লাকবোর্ডে অভ্যস্ত নয় তারা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে বাস্তবচিত্র সমেত পড়া বুঝে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা লাইব্রেরিতে বসে শুধু গ্রন্থ কীট নয়, অনলাইনে বিচরণ করছে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজের ইকো লাইব্রেরি থেকে জগদ্বিখ্যাত মাইক্রোসফট কার্যালয়ের ক্যারিয়ার ফেস্ট তথা নাসার গবেষণা কেন্দ্রেও। শুধু আমরাই নয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন কম্পিউটারের বিভিন্ন টুলস, সফটওয়্যার ও অ্যাপস ব্যবহার করে শিক্ষার ডিজিটালাইজেশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই যে বিষয়গুলো এসব এমনিতেই হয়নি, এগুলো হয়েছে সরকারের নিজেদের যতটুকুই আছে তা নিয়ে বড় চিন্তা করার মানসিকতা থেকে। এখন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে ওদেরকে এগিয়ে নেওয়া, আর এর মধ্য দিয়েই সম্ভব প্রকৃত এগিয়ে যাওয়া।

উত্তরা মডেল টাউনের প্রায় জন্মলগ্ন থেকে নাগরিকদের সু-শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করছে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এটি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত গভর্নিং বডি, দক্ষ অধ্যক্ষ এবং এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষক কর্তৃক পরিচালিত। উত্তরায় ব্যয়বহুল অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সীমিত ব্যয়ের মানসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রমোন্নয়নের এক চমত্কার ধারা অব্যাহত রেখে শতকরা পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে তৃতীয়, চতুর্থ এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জনসহ বছরব্যাপী উপহার দিচ্ছে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কৃতকার্যের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক।

এখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। কর্তৃপক্ষের সক্রিয় তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী কর্তৃক উন্নত শিক্ষাদান এবং নিরিবিলি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিজস্ব বৃহদাকার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা ও সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগারে ব্যবহারিক ক্লাস, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে কম্পিউটার ব্যবহারসহ আধুনিক গ্রন্থাগারে অধ্যয়ন ও পুস্তক বিলির সুব্যবস্থা এখানে বিদ্যমান। এই প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মেয়েদের জন্য হলদে পাখি, গালর্স গাইড, গার্লস ইন স্কাউট এবং ছেলেদের জন্য কাব ও বয় স্কাউটসহ প্রতি বৃহস্পতিবার সপ্তাহিক বিতর্কানুষ্ঠান ও বিশেষ দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মনোমুগ্ধকর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এলাকার সমগ্র মানুষ উপভোগ করে থাকে। এদের শিক্ষা সফরের উপর বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট ও তদানুযায়ী মার্কস দেওয়া এবং পুরস্কৃত করা হয়। একই সঙ্গে রেডিও-টেলিভিশনে জাতীয় বিতর্কানুষ্ঠানে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রায় রুটিন ওয়ার্কের মতোই বলা চলে। স্থানীয় সমাজ-সেবামূলক কাজেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের রেকর্ড।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদুর রহমান প্রসঙ্গত বলেন, ‘শিক্ষাকে উপভোগ্য ও নান্দনিক করার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় পাঠ্যমুখী করার কাজটিই মূলত আমরা করছি। এখানে পাঠশালা বলতে কোনো কঠোর বাধ্য-বাধকতা বা বইয়ের পোকা বনে যাওয়া নয়, বরং শিক্ষা এখানে আনন্দময় তথা উপভোগ্য একটি বিষয়মাত্র! বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষানুশীলনের বিষয়টিকে যাতে স্বীয় আগ্রহে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এবং নিয়মিত পড়াশোনা করে, সে জন্য ১ম শ্রেণি থেকেই শিক্ষাটাকে এখানে উপস্থাপন বা পরিচয় করা হয় একটি নান্দনিক প্রতিযোগিতা তথা চর্চা হিসেবে।’