সকালে অ্যাক্রিডিটেশন গলায় ঝুলিয়ে হোটেল থেকে কলকাতার নিউ মার্কেটের সামনে নেমেছিলাম আমরা বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিক। চো দোকানি তা দেখতেই টিকিট চাইলেন। পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলেন, উনারা সৌরভ দাদার (সৌরভ গাঙ্গুলি) অতিথি। দেখছিস না, গলায় বিসিসিআইয়ের কার্ড। ইডেনমুখী রাস্তাগুলোর ট্রাফিক মোড়গুলোতে ম্যাচের প্রচারণা। গোলাপি রঙের বড়ো বড়ো বোর্ড বসানো হয়েছে। দর্শকদের স্টেডিয়াম যাওয়ার নিদের্শনা থাকা বোর্ডগুলো গোলাপি রঙেই করা হয়েছে। চিকচিকে রোদ। ধুলো উড়া রাস্তায় হেঁটে ইডেনের দিকে ছুটছে মানুষ। জনস্রোত যেন চারপাশে। সব মোহনা এক হয়েছে ইডেনের সামনে। দলে দলে মানুষ এসেছেন দিবারাত্রির টেস্টের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আগমনের কারণে নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল বেশ। সেসবে সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ঝক্কি পোহাতে হয়েছে বৈকি। তবে সেখানে কর্ণপাতের সুযোগ তাদের কই। ক্রিকেটপ্রেমীরা শুধু মাঠে আসা, গ্যালারিতে বসার নেশায় বুঁদ সবাই।
মাঠে আসার রাস্তায় ছিল জার্সি, প্ল্যাকার্ড বিক্রির ধুম। প্রিয় ক্রিকেটারদের জার্সি কিনতে ব্যাকুল দর্শকরা। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির জার্সিটাই সবার পছন্দের শীর্ষে। শুধু ভারতীয় নয়, বাংলাদেশের কতিপয় দর্শকও ছিলেন। তারা খুঁজছিলেন বাংলাদেশের জার্সি-ক্যাপ। ইডেনের গেটের সামনেহঠাত্ এক বিক্রেতা দেখেই এগিয়ে গেলেন এক দর্শক। বাংলাদেশের জার্সি কিনে মাঠে প্রবেশের জন্য ছুটলেন তিনি।
সমুদ্রের গর্জন, কানফাটানো আওয়াজ—এসব ইডেন গার্ডেন্সের সামনে নস্যি। গগনবিদারি চিত্কার, হর্ষধ্বনিতে গতকাল প্রকম্পিত ছিল ইডেন। ৪০ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টেস্ট। স্বাগতিকদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন সবাই। বাংলাদেশের উইকেট পড়তেই হুল্লোড় হয়েছে গ্যালারিতে। গর্জন তুলে উমেশ-শামিদের প্রেরণা যুগিয়েছেন ইডেনের দর্শকরা।
তবে ইডেনের গোলাপি উত্সবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সকাল থেকেই গ্যালারিতে দেখা গেছে কতিপয় দর্শককে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহরের সঙ্গী হয়ে এসেছেন অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক। সবার ঠাঁই হয়েছে গ্যালারিতে। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলা দলটির ১৪ জন সাবেক ক্রিকেটার এদিন ইডেনে উপস্থিত ছিলেন। নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আকরাম খান, মেহরাব হোসেন অপি, হাসিবুল হোসেন শান্তদের একটা পুনর্মিলনীও হয়ে গেছে ইডেনে।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ভারত
ইডেন টেস্ট
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
সাদমান ক সাহা ব যাদব ২৯ ৫২ ৫ ০
ইমরুল এলবিডব্লু ইশান্ত ৪ ১৫ ০ ০
মুমিনুল ক রোহিত ব যাদব ০ ৭ ০ ০
মিঠুন ব যাদব ০ ২ ০ ০
মুশফিক ব শামি ০ ৪ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ ক সাহা ব ইশান্ত ৬ ২১ ১ ০
লিটন আহত ২৪ ২৭ ৫ ০
নাঈম ব ইশান্ত ১৯ ২৮ ৪ ০
এবাদত ব ইশান্ত ১ ৭ ০ ০
মিরাজ ক পুজারা ব ইশান্ত ৮ ১৩ ২ ০
আল আমিন অপরাজিত ১ ৪ ০ ০
রাহি ক পুজারা ব শামি ০ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৮, লেবা-৬) ১৪
মোট: ৩০.৩ ওভারে ১০৬/১০
উইকেট পতন:১-১৫ (ইমরুল), ২-১৭ (মুমিনুল), ৩-১৭ (মিঠুন), ৪-২৬ (মুশফিক), ৫-৩৮ (সাদমান), ৬-৬০ (মাহমুদউল্লাহ), ৬-৭৩ (লিটন*), ৭-৮২ (এবাদত), ৮-৯৮ (মিরাজ), ৯-১০৫ (নাঈম), ১০-১০৬ (রাহি)।
বোলিং: ইশান্ত ১২-৪-২২-৫, উমেশ যাদব ৭-২-২৯-৩, শামি ১০.৩-২-৩৬-২, জাদেজা ১-০-৫-০।
ভারত-১ম ইনিংস
আগারওয়াল ক মিরাজ ব আল আমিন ১৪ ২১ ৩ ০
রোহিত এলবিডব্লু এবাদত ২১ ৩৫ ২ ১
পুজারা ক সাদমান ব এবাদত ৫৫ ১০৫ ৮ ০
কোহলি ব্যাটিং ৫৯ ৯৩ ৮ ০
রাহানে ব্যাটিং ২৩ ২২ ৩ ০
অতিরিক্ত (লেবা-১, ও-১) ২
মোট: ৪৬ ওভারে ১৭৪/৩
উইকেট পতন: ১-২৬ (আগারওয়াল), ২-৪৩ (রোহিত), ৩-১৩৭ (পুজারা)
বোলিং:আল আমিন ১৪-২-৪৯-১, আবু জায়েদ ১২-৩-৪০-০, এবাদত ১২-১-৬১-২, তাইজুল ৮-০-২৩-০
