ইডেনের ৪২
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টেস্টের মাধ্যমে ইডেন গার্ডেনসের আরেকটি অভিষেক হলো। দুই দলের সঙ্গে শতবর্ষী স্টেডিয়ামটাও দিবারাত্রির টেস্টের ইতিহাসে নাম লেখালো গতকাল। ম্যাচটা ছিল ইডেনের ৪২তম টেস্ট। ভারতের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে কলকাতার এই মাঠে। ইডেনের পরই রয়েছে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়াম। ৩৪টি টেস্ট হয়েছে কোটলায়। চেন্নাইয়ে ৩২, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে ২৫, ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামীতে ২৩টি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ইংল্যান্ডের লর্ডসে। ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত এই স্টেডিয়ামে হয়েছে সাদা পোশাকের সর্বোচ্চ ১৩৯টি ম্যাচ। মেলবোর্নে ১১১টি, সিডনিতে ১০৭টি, ইংল্যান্ডের ওভালে ১০২টি টেস্ট খেলা হয়েছে।
আল-আমিনের ফেরা
ভারতের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজের দল দিয়েই সাড়ে তিন বছর পর বাংলাদেশ দলে ফিরেছিলেন আল-আমিন হোসেন। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের অনুপস্থিতিতে একই সিরিজের টেস্ট ও দলে ফিরেন ডানহাতি এই পেসার। এবার টেস্ট একাদশেও ফিরলেন আল-আমিন।
গতকাল ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশের একাদশে ঠাঁই হয়েছিল অভিজ্ঞ এই পেসারের। ইন্দোরে প্রথম টেস্টে একাদশের বাইরে ছিলেন তিনি। ইডেনের আগে ২০১৪ সালের অক্টোবরে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন আল-আমিন। ইডেনে তাই বাংলাদেশের একাদশে থাকছে তিন পেসার। গতকাল বাংলাদেশের একাদশে ছিল আরো একটি পরিবর্তন। মেহেদী হাসান মিরাজ বাদ পড়েন একাদশ থেকে। তার জায়গায় তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসান সুযোগ পান। অনুমিতভাবেই জায়গা পাননি মুস্তাফিজুর রহমান।
এক ওভারের উন্নতি
ইন্দোর টেস্টে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ বিপাকে ফেলেছিল ওপেনাররা। দুই ইনিংসেই ষষ্ঠ ওভারে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ইমরুল কায়েস ও সাদমান ইসলামের জুটি। প্রথম ইনিংসে ষষ্ঠ বলে, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বলে ভেঙে যায় ওপেনিং জুটি। দুই বারই প্যাভিলিয়নের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে হাঁটা ধরেছিলেন ইমরুল। ইডেনে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির স্থায়ী কিছুটা বেড়েছে। সেটা খুবই যত্সামান্য।
গতকাল সপ্তম ওভারেই বিচ্ছিন্ন হন ওপেনাররা। বরাবরের মতো এবারও ইমরুলই প্রথম আউট হয়েছেন। ইশান্ত শর্মার বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে ৪ রান করেন এই বাঁহাতি। ভারত সফরে তিন ইনিংসেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি তিনি। ইন্দোরে ১২ ও ১০ রানের পর গতকাল দলীয় ১৫ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
‘ডাক’
৭ বলে সপ্তম
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের বড়ো ভরসা ধরা হয় মুমিনুল হককে। নেতৃত্ব পাওয়ার পর মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলছেন তিনি। এর মাঝেই আড়াল হয়ে যাচ্ছে মুমিনুলের ব্যাটের হাসি।
গতকাল ক্যারিয়ারে সপ্তমবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন এই বাঁহাতি। উমেশ যাদবের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। টেস্টে মুমিনুলের সপ্তম ‘ডাক’-এর ইনিংসটা স্থায়ী হয়েছিল ৭ বল।
গতকাল লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের আরো দুই ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট হয়েছেন। মুশফিকুর রহিম এগারো বার ও মোহাম্মদ মিঠুন তৃতীয় বার রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। ১১ বলের মধ্যে ফিরেছেন মুমিনুল-মিঠুন-মুশফিক।
- স্পোর্টস রিপোর্টার, কলকাতা থেকে
