সব ধরনের পাগলামি ছেড়ে বাবার নয় নম্বর মহা বিপদ সংকেত পেয়ে অবশেষে বাবার খাবার হোটেল ব্যবসায় মনোযোগ দেয় সেন্টু ভাই। পাড়ার মাঝে মজনু নামে যে অপবাদ কপালে জুটেছে তাও কমানোর একটা চেষ্টা! ক্যাশে বসে ব্যবসা করছেন। আর মাঝে মাঝে প্রেমের কবিতা লেখেন! কবিতাগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠায়। তবে এখনো কোনো কবিতা প্রকাশের মুখ দেখেনি! তারপরেও ব্যবসার পাশাপাশি লেখালেখির সাধনা চলছে।
প্রতিদিন কত ধরনের কাস্টমার আসে দোকানে। সেদিন হঠাত্ দোকানে আসে সুরভী! সাথে ইয়া লম্বা, সুদর্শন এক যুবক! সাথে একটা ফুটফুটে বাচ্চা! দেখে তো সেন্টু ভাই অবাক! তারা এসে দোকানের কেবিনে বসল। সেন্টু ভাইয়ের সেই পুরোনো কথাগুলো মনে পড়ে গেল। এই সেই সুরভী যার জন্য একসময় সেন্টু ভাই ছিল পাগলপারা। সেই ভ্যালেন্টাইস ডের কথা মনে পড়লে এখন আমবশ্যার রাতে ব্যথা উঠে সেন্টু ভাইয়ের পিঠে! সেদিন ফুল দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সুরভীর ভাইয়ের হাতে! তারপরের ঘটনা ইতিহাস! গার্লস স্কুলের সামনে গিয়ে প্রায় দাঁড়িয়ে থাকত সেন্টু ভাই। কতবার যে এ কারণে বাবার হাতে প্রহার হতে হল! সঙ্গে ক্যাশের টাকা চুরির অপরাধ। একবার বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সুরভীদের পাড়ায় যায়। কাঁচা রাস্তায় পা পিছলে পড়ে এক সপ্তাহ বিছানায় লেপ্টে থাকতে হয়েছিল। আরো কত কী! এই সুরভীর কারণে আজ সেন্টু ভাই চিরকুমার সংঘের সভাপতি।
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাত্ একটা মিষ্টি সালামে বাস্তবে ফেরেন সেন্টু ভাই। দেখেন সামনে সুরভী দাঁড়িয়ে। ‘অনেকক্ষণ যাবত্ ডাকছি, কোথায় হারালেন সেন্টু ভাই?’ কোনো উত্তর দিতে পারলেন না সেন্টু ভাই। ‘ও, পরিচয় করিয়ে দিই, এ হলো আমার বর, আসিফ। বড়ো লবণ ব্যবসায়ী! আর এ আমাদের গ্রামের বড়ো ভাই, কবি সেন্টু ভাই! ভাই খুব ভালো কবিতা লেখেন! ভাই আমাদের নিয়ে একটা কবিতা লিখবেন তো! এই যে আমার বাচ্চা, আয়াত! আয়াত, কবি মামাকে হাই বলো!’ সেন্টু ভাই কী করবেন ভেবে পেলেন না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। ‘জানো আসিফ, সেন্টু ভাই এখনো বিয়ে করেনি! কোনো এক মেয়ের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। ভাই বিয়েটা তাড়াতাড়ি নামায় ফেলেন। আগামী মাসে বিদেশ ঘুরতে যাবো। অন্তত আপনার বিয়েটা খেয়ে যাই।’ বিল দিয়ে যাওয়ার সময় পঞ্চাশ টাকা বকশিস দিয়ে গেল। সঙ্গে সেই পুরোনো হাসি! সেন্টু ভাই যেন পাথর হয়ে গেল। পুরোনো ব্যথাগুলো যেন আবার জেগে উঠল। এ যেন কাটা গায়ে নুনের ছিটা!
সেন্টু ভাই হোটেলের ছেলেকে বলল, ‘ওই, যা লবণ কিনে আন। দাম নাকি আরো বাড়বে। শালার নুন!’
পটিয়া, চট্টগ্রাম
