আমি পেঁয়াজ। আমি একটি মসলা। আমি রান্না ঘরে শোভা পাই। আমার কদর ধনী-গরিব সব মানুষের কাছে সমান। আমাকে ছাড়া তরকারি রান্নার করার কথা চিন্তা করা যায় না।
একটা সময় ছিল, যখন তোমরা আমার কোনো দাম দিতে না। আমাকে অবহেলা করতে। খিচুরির সঙ্গে একটুখানি পেঁয়াজ খাওয়ার অপরাধে কত প্রেমিকা যে তার প্রেমিক কে চুম্বন করেনি তার হিসাব নেই। আমাকে একটু ভালোবেসে খাওয়ার অপরাধে কতশত প্রেমিকদের তার প্রেমিকার কাছে অপমানিত হতে হয়েছে। আমার গন্ধ নাকি তাদের সহ্য হয় না!
অথচ দেখ, বাংলাদেশে আজ আমার কত নামডাক! আমাকে একটু কম দামে কেনার জন্য কত মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। টিভি, রেডিও, ফেসবুক, পত্রিকা সবখানে আমাকে নিয়ে আলোচনা। আমাকে বিয়ে বাড়িতে গিফট হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে মিষ্টির বদলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেদিন দেখলাম, মাঝিরাও যাত্রী পারাপার করতে আর আনা, কানের সোনা এসব নিতে চায় না। কান পেতে এক মাঝির গান শুনলাম। মাঝি গাইছে,
‘সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা
তোমার বেলায় নেব সখি পেঁয়াজ দুই খানা...
সখি গো ও... আমি...’
যাহোক, এতদিন আমাকে কাটতে গিয়ে কত শত নারী অঝোরে চোখের জল ঝরিয়েছে। কিন্তু এখন আমি সাম্যবাদী আচরণ করছি। নারী-পুরুষ উভয়কেই কাঁদাচ্ছি। নারী কাঁদছে আমার ঝাঁজে, আর পুরুষ কাঁদছে আমার দামে।
এতদিন কোনো দেশ আমাকে তেমন দাম না দিলেও বাংলাদেশ আমার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে। একটা তথ্য আপনাদের জানিয়ে দিই, বাংলাদেশের হয়ে সাকিব, তামিম, মুশফিকের পর আমি চতুর্থ খেলোয়ার হিসাবে ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত রয়েছি। এইজন্য স্পেশাল থ্যাংকস ওই সিন্ডিকেটদের, যারা আজ আমাদেরকে গোডাউনে মজুদ না করলে সেলিব্রিটি হওয়া সম্ভব হতো না।
রাজশাহী কলেজ
