গোলাপি বলে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা হয়েছে যাচ্ছেতাই। ব্যাটসম্যানরা আত্মসমর্পণ করেছেন ভারতীয় বোলারদের সামনে। বোলাররা একইভাবে হতাশায় পোড়াননি। চোটাঘাত, কনকাশনের (মাথায় আঘাত) ঝড় মিলে বিপাকে থাকা বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তির জোগান দিয়েছেন বোলাররা। ইডেনে গতকাল ভারতের রানের চাপে পিষ্ট হওয়ার শঙ্কা ছিল। ইডেন গার্ডেন্সে গতকাল সেই ধাক্কা থেকে কিছুটা মুক্তি এনে দিয়েছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে পেস বোলাররা।
এবাদত হোসেন, আল-আমিন হোসেন, আবু জায়েদ রাহীর বোলিংয়েই মানরক্ষা হয়েছে বাংলাদেশের। ইডেনে বাজে ব্যাটিংয়ের পর ভারতের বিরুদ্ধে লড়লেন পেসাররা। অলআউট করতে না পারলেও পেসারদের বোলিং প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তাই প্রথম ইনিংসে ভারতের স্কোরটা অনেক বড়ো হয়নি। গতকাল চা-বিরতির আগে ৯ উইকেটে ৩৪৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত। ২৪১ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। যার রূপকার মূলত বিরাট কোহলি। ভারতীয় অধিনায়ক তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি।
আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে খেলতে নামে ভারত। গতকাল ৪৬.২ ওভার ব্যাট করে ১৭৩ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। উইকেট হারিয়েছে ৬টি। নতুন বল নেওয়ার পরই ভারতকে চাপটা দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। নতুন বলেই পড়েছে ৪ উইকেট। লাঞ্চের পর ১৩.৪ ওভারে ৫৮ রান তুলতেই ভারত ৫ উইকেট হারায়।
গতকাল দিনের প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ভারতকে টলাতে পারেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক কোহলি ও রাহানে এগিয়ে নেন দলকে। তাদের জুটিটা লাঞ্চের আগেই ভাঙতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন রাহানে। তিনি ৫১ রান করেন। ভেঙে যায় ১০১ রানের জুটি। রাহানে ফেরলেও ১৫৯ বলে ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তার ৭০তম সেঞ্চুরি। আর ইডেনে ব্যাক টু ব্যাক টেস্ট সেঞ্চুরি। তখনও ভারতের স্কোরটা পাহাড়ে চড়বে বলেই মনে হচ্ছিল।
লাঞ্চের পর ধাক্কাটা দেয় বাংলাদেশের পেসাররা। রবীন্দ্র জাদেজাকে বোল্ড করেন রাহী। জাদেজা ১২ রান করেন। নতুন বল নেওয়ার পর তিন বল উইকেটে স্থায়ী হয়েছিলেন কোহলি। এবাদতের বলে তাইজুলের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন ভারতীয় অধিনায়ক। এবাদতের বলটা খারাপই ছিল, কোহলিও ভালোভাবে ব্যাটে-বলে করেছিলেন। বল বাউন্ডারি অতিক্রম করে যাচ্ছিল। ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তাইজুল শূন্যে লাফিয়ে উঠেন। একহাতে বল তালুবন্দি করেন। ক্যাচ ধরার সময় মাটিতে পড়লেও বল হাতছাড়া করেননি তাইজুল। দর্শনীয় ক্যাচের বলি হয়ে ফেরা কোহলিও হেসে ফেলেন এমন ক্যাচ দেখে। কোহলি ১৮ চারে ১৩৬ রান করেন।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে (৯) এলবির ফাঁদে ফেলেন আল-আমিন। পরে রাহীর বলে স্লিপে ক্যাচ দেন উমেশ যাদব (০)। আল-আমিনের তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ইশান্ত শর্মা (০)। একপ্রান্ত আগলে দলকে টানছিলেন ঋদ্দিমান সাহা। অবশ্য তার সংগ্রামটা দীর্ঘায়িত হতে দেননি কোহলি। চা-বিরতির আগেই ডেকে নিয়েছেন ঋদ্দিমান ও শামিকে। ইনিংস ঘোষণা করে দেন তিনি। ঋদ্দিমান অপরাজিত ১৭, শামি অপরাজিত ১০ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন ৮৫ রানে ৩টি, এবাদত ৯১ রানে ৩টি, রাহী ৭৭ রানে ২টি, তাইজুল ১টি করে উইকেট নেন।
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস: ৩০.৩ ওভারে ১০৬/১০
ভারত-১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
আগারওয়াল ক মিরাজ ব আল আমিন ১৪ ২১ ৩ ০
রোহিত এলবিডব্লু এবাদত ২১ ৩৫ ২ ১
পুজারা ক সাদমান ব এবাদত ৫৫ ১০৫ ৮ ০
কোহলি ক তাইজুল ব এবাদত ১৩৬ ১৯৪ ১৮ ০
রাহানে ক এবাদত ব তাইজুল ৫১ ৬৯ ৭ ০
জাদেজা ব আবু জায়েদ ১২ ৪১ ০ ০
ঋদ্ধিমান অপরাজিত ১৭ ৪১ ২ ০
অশ্বিন এলবিডব্লু আল আমিন ৯ ২১ ২ ০
যাদব ক সাদমান ব জায়েদ ০ ৩ ০ ০
ইশান্ত এলবিডব্লু আল আমিন ০ ৩ ০ ০
শামি অপরাজিত ১০ ৫ ১ ১
অতিরিক্ত (বা-১২, লেবা-২, ও-৮) ২২
মোট: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ ডিক্লেয়ার
n উইকেট পতন
১-২৬ (আগারওয়াল), ২-৪৩ (রোহিত), ৩-১৩৭ (পুজারা), ৪-২৩৬ (রাহানে), ৫-২৮৯ (জাদেজা), ৬-৩০৮ (কোহলি), ৭-৩২৯ (অশ্বিন), ৮-৩৩০ (যাদব), ৯-৩৩১ (ইশান্ত)
n বোলিং
আল আমিন ২২.৪-৩-৮৫-৩, আবু জায়েদ ২১-৬-৭৭-২, এবাদত ২১-৩-৯১-৩, তাইজুল ২৫-২-৮০-১
বাংলাদেশ-২য় ইনিংস
সাদমান এলবিডব্লু ইশান্ত ০ ৫ ০ ০
ইমরুল ক কোহলি ব ইশান্ত ৫ ১৫ ০ ০
মুমিনুল ক সাহা ব ইশান্ত ০ ৬ ০ ০
মিঠুন ক শামি ব যাদব ৬ ১২ ০ ০
মুশফিক ব্যাটিং ৫৯ ৭০ ১০ ০
মাহমুদউল্লাহ আহত অবসর ৩৯ ৪১ ৭ ০
মিরাজ ক কোহলি ব ইশান্ত ১৫ ২২ ২ ১
তাইজুল ক রাহানে ব যাদব ১১ ২৪ ১ ০
অতিরিক্ত (বা-৮, লেবা-৪, ও-৫) ১৭
মোট: ৩২.৩ ওভারে ১৫২/৬
n উইকেট পতন
১-০ (সাদমান), ২-২ (মুমিনুল), ৩-৯ (মিঠুন), ৪-১৩ (ইমরুল), ৪-৮২*(মাহমুদউল্লাহ), ৫-১৩৩ (মিরাজ), ৬-১৫২ (তাইজুল)
n বোলিং
ইশান্ত ৯-১-৩৯-৪, যাদব ১০.৩-০-৪০-২, শামি ৮-০-৪২-০, অশ্বিন ৫-০-১৯-০
