গত চার মাস ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খুলনা ও সাতক্ষীরার ১১ ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আগামীকাল সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ঢাকায় তলব করেছে। এসময় তাদেরকে গত তিন মাসে আমদানি ও বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আনতে বলা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তারা বড়ো অঙ্কের টাকা মুনাফা লুটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত আগস্টে দক্ষিণ অঞ্চলের নওয়াপাড়া, খুলনার কদমতলা, ট্রাক টার্মিনাল, পিরোজপুর, চুকনগর ও কপিলমুনি মোকামে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪০-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। অক্টোবর থেকে পেঁয়াজের মূল্য বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ১৮ নভেম্বর এ অঞ্চলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে বড় অঙ্কের টাকা মুানাফা লুটেছে ১১ সদস্যের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট। মজুতদারদের কাছে কাস্টমস মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তদন্তে খুলনা অঞ্চলের ১১ সদস্যের নাম পাওয়া গেছে। প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সিন্ডিকেটের সদস্যরা গুদামে পেঁয়াজ পচে গেলেও বাজারে ছাড়েনি। সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এবং সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। অতি মুনাফার লোভে তারা পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের ১১ সদস্যকে সোমবার ঢাকা কাস্টমসে তলব করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে।
টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু:
টিসিবির খুলনাস্থ প্রধান নির্বাহী মো. রবিউল মোর্শেদ জানান, শুক্রবার ছুটির দিন বাদে বৃহস্পতিবার ও শনিবার নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকে কেজি প্রতি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। মাথাপিছু এক কেজি করে বিক্রি করা হচ্ছে। গত দু’দিনে ১০ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। নগরীর পয়েন্টগুলো হচ্ছে- টুটপাড়া কবরখানা মোড়, এসপি অফিসের মোড়, ময়লাপোঁতা, নিউমার্কেট ও খালিশপুর। বাজারমূল্য সহনশীল না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুরের বাজার পেঁয়াজশূন্য
পিরোজপুর অফিস জানায়, পিরোজপুর পৌরবাজারে পেঁয়াজের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার মুদি দোকানে ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফেরত এসেছেন। খুচরা দোকানদারদের খুলনার পাইকারি বাজার থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে পেঁয়াজ কিনতে হয় বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাতগুটিয়ে বসে আছেন। বাজারে গিয়ে দেখা যায় হাতেগোনা দু’একটি দোকানে নিম্নমানের সামান্য কিছু পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বসে আছেন। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে কেজি প্রতি ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনছেন। মুদি দোকানদাররা জানান, খুলনার মোকাম থেকে ১৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি দরে কিনে পিরোজপুরে আনতে অতিরিক্ত পাঁচ টাকা পরিবহন খরচ হচ্ছে। অথচ জেলা বাজার ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলে দিয়েছেন, ১৫০ টাকার ঊর্ধ্বে খুচরা দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা যাবে না। এ দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের খুলনা থেকে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ এনে বিক্রির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু খুলনা থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয় বলে পিরোজপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকানে পেঁয়াজ তুলতে অপারগ হওয়ায় বাজার এখন পেঁয়াজশূন্য।
