জনগণের দেওয়া করই হচ্ছে রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উত্স। কর আদায়ে সরকারের নানামুখি পদক্ষেপে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিবছর বাড়ছে সেবা গ্রহণকারী, রিটার্ন দাখিলকারী ও আয়কর আদায়ের পরিমাণ। বেড়েছে নতুন ই-টিআইএনের সংখ্যাও। আয়কর মেলায় কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যে কোনো নতুন করদাতা তার করনথি খুলতে পারেন। চাহিদা অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে আয়কর মেলায় গিয়ে একজন নতুন করদাতা মাত্র ২০ মিনিটেই ইলেকট্রিক ট্যাক্স পেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন) সার্টিফিকেট পাচ্ছেন। পুরনো করদাতারাও পাচ্ছেন কর বিবরণীর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র। কাউকে এজন্য দীর্ঘসূত্রতায়ও পড়তে হচ্ছে না। আর এক ঘণ্টায় মিলছে করদাতার কর বিবরণীর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র। আয়কর মেলার এই চিত্র খুবই সুখকর। কিন্তু হতাশার খবর হচ্ছে, আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তি রশিদ ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করার পরও পরবর্তী সময় কোনো কোনো আয়কর সার্কেল অফিস আয়কর প্রদানকারীদের চিঠি দিয়ে তলব করে। তাদের জানানো হয়, আয়কর মেলায় তাড়াহুড়ো করে রিটার্ন জমা নেওয়ার সময় তাদের রিটার্ন ফরম যথাযথভাবে হিসাব বা পরিমাপ করা যায়নি। এক্ষেত্রে তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ ঘুষ (তাদের ভাষায় বকশিস) হিসাবে দাবি করা হয় এবং চাহিদামতো প্রদান না করলে আয়কর মামলা বা এ ধরনের জটিল অবস্থায় ফেলার ভয় দেখানো হয়। মেলা থেকে রিটার্ন জমা দিয়ে আয়কর সনদ সংগ্রহের পরও এ ধরনের পরিস্থিতি খুবই বিব্রতকর। এ কারণে যারা মেলায় আয়কর না দিয়ে সরাসরি আয়কর অফিসে রিটার্ন জমা দেয়, তাদেরও নানাভাবে হয়রানির করা হয়। রিটার্ন ফরমে ভুল হলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জরিমানাসহ সংশোধন করলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নামে হয়রানি করা কোনো ক্রমেই কাম্য নয়। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে আয়কর প্রদানকারীদের অহেতুক হয়রানি থেকে রক্ষা করবেন।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
