কার্বন নিঃসারণ শূন্যে আনতে চায় চীন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৮

আগামী ৩০ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসারণ শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় চীন। ২০৫০ সালের মধ্যে চীন তার মাথাপিছু অর্থনৈতিক আয় তিনগুণ করতে চাইলেও এই সময়ে কার্বন নিঃসারণ যাতে বেড়ে না যায় সেই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায় দেশটি। সেটি করতে পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে শীর্ষ ধনীগুলোর পাশাপাশি শীর্ষ উন্নত দেশের তালিকায় জায়গা করে নেবে বর্তমানে কার্বন নিঃসারণে শীর্ষ দেশগুলোতে থাকা চীন। তবে তাদের এই বক্তব্য কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।

এনার্জি ট্রান্সিশন কমিশনের চেয়ারম্যান এডায়ার টার্নার বলেন, চীন স্টিল, সিমেন্ট, রাসায়নিকসহ ভারি শিল্পগুলো থেকে কার্বন নিঃসারণ বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে সড়ক-মহাসড়ক এবং রেল সেবায় বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করার কথাও চিন্তা করছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিপিংয়ে বায়ো জ্বালানি পদ্ধতি চালু করা হবে। কার্বন নিঃসারণ শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে চীনকে বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে হবে। এটি করতে হলে তাদের সৌর বিদ্যুত্ এবং বায়ু শক্তি উত্পাদন বাড়াতে বাত্সরিক বিনিয়োগ হার তিন থেকে চারগুণ বাড়াতে হবে। কার্বন নিঃসারণ কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। ২০১৭ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌর শক্তিকে জনপ্রিয় করে তুলতে সৌর জ্বালানির দাম অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতিমালা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপামর জনসাধারণকেও সম্পৃক্ত করতে চায় চীন।

বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসারণ হয় চীনে। বস্তুত চীনে এই গ্রিন হাউস গ্যাসটির মাথাপিছু নিঃসরণের পরিমাণও বিশ্বের গড় পরিমাণের চেয়ে বেশি। চীনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসারণ কমিয়ে আনতে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে দেশটির শীর্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বের গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের গড় প্রবৃদ্ধি হার ছিল ২.২ শতাংশ। এ দশ বছরে পৃথিবীর ইতিহাসে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ বেড়েছে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের যথাযথ ব্যবস্থা না-নেওয়া হয়, তবে একবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে পৃথিবীর পৃষ্ঠতলের গড় তাপমাত্রা ৩.৭ থেকে ৪.৮ ডিগ্রি বাড়বে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে চীন সচেতন আছে এবং দেশটি পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজও করে যাচ্ছে। চীনের ইউনিট জিডিপি কার্বন নির্গমনের মাত্রা স্পষ্টভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৩ সালে চীনে ইউনিট জিডিপি কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমনের পরিমাণ ২০০৫ সালের চেয়ে ২৮.৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

চীনের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া হতে হবে পরিবেশবান্ধব। এডায়ার টার্নার বলেন, কার্বন নিঃসারণ সমস্যা নিরসনে ইতিমধ্যে এনার্জি ট্রান্সিশন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশটির জ্বালানি উত্পাদনকারী, ব্যবহারকারী, প্রযুক্তি বিশারদ, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং এনজিওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।-সিএনএন