কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা বাড়াতে নারী সেনাদের জন্য নতুন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে প্যারাশুট রেজিমেন্ট ও রয়্যাল মেরিনসের মতো এলিট ইউনিটে নারী সদস্যের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উইয়ন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীদের পুরুষদের সমানভাবে সব ইউনিটে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হলেও, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মূলত ক্রীড়া পটভূমি থেকে আসা নারীরাই এসব ইউনিটে সফল হচ্ছেন।
নতুন নির্দেশিকায় নারী সেনাদের দৈনিক খাদ্য গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এলিট ইউনিটে প্রশিক্ষণ বা দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ক্যালরি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগের নির্দেশনার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, পর্যাপ্ত আয়রন ও ভিটামিন ডি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানো নারী সেনাদের আহত হওয়ার ঝুঁকি এবং ঋতুচক্রে অনিয়ম দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমানো নারী সদস্যদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি চার গুণ এবং সাত ঘণ্টা ঘুমানোদের তুলনায় আহত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা নারী সেনাদের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। এর ফলে প্রতি চারজনের একজন অনিয়মিত ঋতুচক্র বা পিরিয়ড মিস হওয়ার সমস্যায় ভোগেন এবং প্রতি দুজনের একজন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সম্মুখীন হন, যা তাদের কর্মদক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নারী সেনাদের জন্য আরও উপযোগী সরঞ্জাম ও সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দেশটির ভেটেরান্স ও পিপল বিষয়ক মন্ত্রী কেলভিন বেইলি বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি নির্ভর করে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের শক্তি, সহনশীলতা ও প্রস্তুতির ওপর। নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীরা সব সময় কঠিন মানদণ্ড পূরণ করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

