ছুটির দিনের একটি ক্লান্ত দুপুর ও পড়ন্ত বিকেল বাইরে কাটাতে কে না ভালোবাসে। আর সেটা যদি হয় পুরোনো কোনো জমিদার বাড়ি তাহলে ভালোলাগার সঙ্গে উঁকি দেয় ইতিহাস। এক সময়ের চাকচিক্য ও কোলাহলে মুখরিত প্রাসাদে শ্যাওলা ও ভাঙা দরজা, যা আজ সময়ের পরিক্রমায় জৌলুস হারিয়েছে।
আর তেমন এক প্রাণহীন জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজিম, প্রমা, ত্বন্বী ও মাহিদুলকে নিয়ে ছুটে যাই মানিকগঞ্জের বিখ্যাত গোবিন্দ রাম সাহার বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট থেকে যাত্রা শুরু করি এবং প্রায় ১ ঘণ্টা পর আমরা পৌঁছাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই জমিদার বাড়িতে। মোট ৩টি ফটক থাকলেও প্রবেশের জন্য একটি খোলা। গেট দিয়ে ঢুকতেই বড় ধরনের একটি ধাক্কা খাই, সৌন্দর্যের ধাক্কা। বড় বড় ৪টি ভবন, এগুলো এক সময় জমিদারদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহূত হতো। শুধু যে বড় ভবন তাই নয়, দেওয়ালে কারুকাজ ও বাহারি নকশা দেখলে বোঝার উপায় নেই এগুলোর বয়স শতবছরের বেশি। এরপর চলে যাই ভেতর বাড়িতে, যা অন্দরমহল নামে পরিচিত এবং এগুলো ছিল বসবাসের জন্য। এখানেও রয়েছে বড় বড় ৩টি ভবন। প্রতিটি ভবনের ডিজাইন, দরজা ও জানালায় রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া, মিশে আছে ভালোবাসা ও শতবছরের ইতিহাস।
ভবনগুলোর কারুকাজ ও সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে সামনে এগিয়ে যেতেই আমাদের সবার চোখ ছানাবড়া। বড় একটি পুকুর পুকুরঘাটে আমরা যখন পৌঁছালাম তখন দুপুরের রোদের উত্তাপ থেতিয়ে বিকেলের মিষ্টি রোদে রূপ নেওয়ার পায়তারায় ব্যস্ত। পুকুর ভর্তি শাপলা ও পদ্ম ফুল। পুকুরের নাম না থাকলেও পদ্ম পুকুর ভাবতে কারো বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না। পদ্ম পুকুরের চারদিকে মোট ৫টি ঘাট, ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনের জানালায় উঁকি দিলো এই ঘাটেই কোনো এক সময় জলকেলিতে ব্যস্ত থাকতো জমিদার বাড়ির মেয়েরা। তাদের সেই হাসির প্রতিধ্বনি যেন আজও দূর থেকে ভেসে আসে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে গেল আমরা টেরই পেলাম না। এরপর পদ্ম পুকুর ঘাটে আরো কিছুক্ষণ চললো আমাদের আড্ডা আর ধীরে ধীরে সূর্য পশ্চিম আকাশে হারিয়ে যেতে লাগলো। কোলাহল মুক্ত নির্মল গোধুলি উপভোগ করতেও জামিদার বাড়ির তুলনা নেই।
এবার ফেরার পালা। জমিদার বাড়ির গেট থেকে যতই সামনে আসছিলাম মনে হচ্ছিল সৌন্দর্য ও শতবছর আগের কিছু মানুষ যেন হাক ছেড়ে বলছে, আজকের মতো বিদায়, আবার তোমাদের নিমন্ত্রণ রইল। একটি ভালো দিন পার করার জন্য বালিয়াটি জমিদার বাড়ির তুলনা হয় না। বাড়িটি নিষ্প্রাণ হলেও দর্শনার্থীদের মনেপ্রাণ ফিরিয়ে দেয় মুহূর্তেই। ইতিহাস ও প্রকৃতির সঙ্গে গল্প আড্ডা গান ও একদিনের ছোট পরিকল্পনায় বালিয়াটির জমিদার বাড়ি সত্যিই অসাধারণ।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ৩৫ কি. মি. দূরে এবং সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মতো। ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াগামী যেকোনো বাসে উঠে যাবেন এবং বালিয়াটি গ্রামে নামবেন। সেখান থেকে সিএনজি যোগে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রবিবার।
