চাপেই কি পথ হারাল মুমিনুলের ব্যাট!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৬

গত সাত-আট বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বড়ো আস্থার জায়গায় মুমিনুল হকের ব্যাট। টেস্ট বিশেষজ্ঞের তকমা জুড়ে গেলেও এই বাঁহাতি ব্যাট প্রতিনিয়ত হেসেছে। দুরন্ত ধারাবাহিকতায় রান তুলেছেন তিনি। হালসময়ে দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানও ধরা হয় তাকে। এই ফরম্যাটে দলের অপরিহার্য বলেই কিনা ধীরস্থির মুমিনুলের ছোট্ট কাঁধে নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়ার সাহস দেখাল বিসিবি।

অধিনায়ক হিসেবে ভারত সফরে এসেই যেন পথভ্রষ্ট মুমিনুলের ব্যাট। প্রথম সিরিজেই বিবর্ণ এই বাঁহাতি। ব্যাটে রান নেই, দলও টানা দুই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। নেতৃত্বের চাপেই কি পথ হারাল এই তরুণের ব্যাট? ইডেন গার্ডেনে টানা দুই ইনিংসে ‘পেয়ার’ পাওয়ার পর কথাটা রটে গেছে সর্বত্র। 

বছর দুয়েক আগেও টেস্টে মুমিনুলের ব্যাটিং গড় পঞ্চাশের বেশি ছিল। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে অভিজ্ঞ হচ্ছেন তিনি এবং অবাক করার বিষয় মুমিনুলের ব্যাটিং গড়ও ততই যেন পড়তির দিকে। ভারত সফর শেষে তার ব্যাটিং গড় নেমে গেছে চল্লিশের নিচে।

তারপরও নাকি চিন্তিত নন মুমিনুল! নিজের ব্যাটিংয়ের চেয়ে দলের ব্যর্থতা নিয়েই চিন্তিত অধিনায়ক। ৩৮ টেস্টে আটটি সেঞ্চুরি, ১৩ হাফ সেঞ্চুরিতে ২ হাজার ৬৫৭ রান আছে তার ঝুলিতে। ব্যাটিং গড় এখন ৩৯.৬৫। একটা সময় ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে সাকিব-তামিমদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মুমিনুল। এখন ৩৯.৪০ গড় নিয়ে তার ঘাড়েই শ্বাস নিচ্ছেন সাকিব।

দেশের বাইরে কখনোই ভালো করতে পারেননি মুমিনুল। ভারতের মাটিতেও সেই ধারা অব্যাহত রইল। ইন্দোর টেস্টে দুই ইনিংসে ৪৪ রান (৩৭, ৭) করেছেন তিনি। ইডেনে তো ২২ গজে থাকতে পেরেছেন মাত্র ১৩ বল। অথচ ব্যাটিং দুর্যোগের দিনে তার ব্যাটেই লড়াইয়ের আশা করে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হওয়ার পর কিনা দলের বিপদেও আস্থা যোগাতে ব্যর্থ মুমিনুলের ব্যাট। ইডেনে দুই ইনিংসে রানের খাতা খুলতে পারেননি। ক্রিকেট ইতিহাসের ২৪তম ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে ‘পেয়ার’ পেয়েছেন। এর আগে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে হাবিবুল বাশার পেয়ার দেখেছিলেন।

ব্যাটিং গড় তো চল্লিশের নিচে নেমে গেল, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের দিকে এমন প্রশ্নের তীর ছুড়তেই বললেন, ‘দেখুন গড় নিয়ে আমি এত বেশি মাথা ঘামানোর চিন্তা করছি না। দলের হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। আর যখন হতাশাজনক ফলাফল হয় তখন সবারই খারাপ লাগে এটাই স্বাভাবিক। আমি হয়তো এখন সংগ্রাম করছি। তবে সংগ্রাম মানুষকে ভালো জায়গায় নিয়ে যায়। আমার মনে হয় সামনে ভালো হবে।’

মুমিনুল শেষ হাফ সেঞ্চুরিটা করেছেন সেপ্টেম্বরে আফগানদের বিরুদ্ধে। তার সর্বশেষ সেঞ্চুরিটা এক বছর আগে। গত বছর চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

নতুন অধিনায়ক হয়ে ইডেন, ইন্দোরে একাকীই সব করেছেন মুমিনুল। অভিজ্ঞ মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহদের খুব সরব দেখা যায়নি অধিনায়কের পাশে। যদিও গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই বাঁহাতির দাবি সবার সহযোগিতা পেয়েছেন মাঠে। মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমি পুরোপুরি সমর্থন পেয়েছি। মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই থেকে শুরু করে সবার সমর্থন পেয়েছি। ম্যানেজমেন্ট থেকে তো অবশ্যই সমর্থন পেয়েছি। শতভাগ সমর্থন পেয়েছি।’