প্রিমিয়ার দাবা লিগ

সাইফ স্পোর্টিং চ্যাম্পিয়ন

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

জীবনে কতবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তা মনে নেই গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান জিয়ার। তবে এবার তিনি কিছুটা খুশি এই কারণে  যে, চার বছর পর লিগ চ্যাম্পিয়ন হলেন জিয়া। শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ২০১৩ সালে মোহামেডানের হয়ে। এবার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের পতাকাতলে ট্রফি পেলেন দেশে তারকা গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া। তবে তার সমস্যা হচ্ছে ছেলে তাহসিন তাজওয়ার দাবা খেলেন এবং জিয়া প্রায়ই ছেলের মুখোমুখি হচ্ছেন। পিতা পুত্রের লড়াইয়ে জিয়া তার ছেলেকে ছাড় দিচ্ছেন একথা অনেকেই মনে করেন। সেই প্রশ্ন কালও উঠল। জিয়া রাখঢাক না করে বলেন,‘আমাকে এই কথাটা শুনতে হয়। আমি নাকি ছেলেকে ছাড় দিয়ে খেলি। কথাটা পুরো ভুল। কখনোই নিজের ছেলেকে ছাড় দিয়ে খেলি না। বরং আমি দেখেছি আমার ছেলে উইনিং পজিশনে থেকেও আমার সঙ্গে ড্র করেছে। বলা যায় ছেলেই আমাকে ছাড় দিয়েছে।’ জিয়া বলেন, জাতীয় এ দাবায় আমার ছেলে সপ্তম হয়েছে। ধরে নিলাম আমি আমার ছেলেকে ছাড় দিয়েছি। তাহলে অন্যরাও কি ছাড় দিয়ে খেলেছে ? এখানে সেই সুযাগ নেই।’ রানার্সআপ নৌবাহিনী। তৃতীয় স্থান পাওয়া গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছেন জিয়ার ছেলে তাহসিন তাজওয়ার।

প্রিমিয়ার দাবায় চ্যাম্পিয়ন সাইফে জিয়ার সঙ্গী ছিলেন বেলারুশের গ্র্যান্ডমাস্টার  কোভালেভ ভাদিশ্লাভ, আজারবাইজানের গ্র্যান্ডমাস্টার এলতাজ সাফারলি গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব, গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব ও ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমান। এসএ গ্রুপ প্রিমিয়ার লিগে ১০ খেলায় ২০ পয়েন্ট নিয়ে এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় সাইফ। শেখ রাসেল চেস ক্লাব চতুর্থ, ইসফট এরিনা চেস ক্লাব পঞ্চম, সোনারগাঁও চেস ক্লাব ষষ্ঠ, তিতাস সপ্তম, সোনালী ব্যাংক অষ্টম, একসেস চেস ক্লাব নবম, সুলতানা কামাল স্মৃতি পাঠাগার দশম হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কোনো ম্যাচ পয়েন্ট না পেয়ে একাদশ হয়। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক পরিবারে দাবার চর্চাটা থাকা উচিত। অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও দাবা খেলা উচিত। তাতে মেধার বিকাশ ঘটবে।’ তিনি জানান- নর্ম লাভে ফিদে মাস্টার মিনহাজ এবং ফাহাদকে স্পেনে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে ফেডারেশন হতে। যেন তারা দাবায় উন্নতি করতে পারে।’

ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কেএম শহিদউল্যা আক্ষেপ করে বললেন, ‘এই মাসে বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট করতে পারলে ভালো হতো।’ অনুষ্ঠানে  সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।